টাঙ্গাইলে সপ্তাহের ব্যবধানে ৫ হত্যাকাণ্ড, জনমনে উদ্বেগ

টাঙ্গাইলে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে পাঁচটি পৃথক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সদর, সখীপুর ও নাগরপুর উপজেলায় সংঘটিত এসব ঘটনায় ব্যবসায়ী, নারী ও সাধারণ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। একের পর এক হত্যার ঘটনায় জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অপরাধ দমনে পুলিশের আরও কার্যকর ভূমিকার দাবি জানিয়েছেন তারা।

সর্বশেষ শনিবার (৪ জুলাই) গভীর রাতে সদর উপজেলার মগড়া ইউনিয়নের কুইচবাড়ি বাজার এলাকায় দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত হন ব্যবসায়ী মো. মাসুদ (৩৮)। তিনি একই এলাকার লাল মিয়ার ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রাত আনুমানিক ১১টার দিকে নিজের মনোহারি দোকান বন্ধ করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন মাসুদ। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। রোববার সকালে বাড়ি ও দোকানের মাঝামাঝি একটি স্থানে তার রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন।

সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ভিক্টর ব্যানার্জি জানান, ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। নিহতের মাথার পেছনে ও কানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। হত্যার কারণ এবং জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।

এর আগে ১ জুলাই সখীপুর উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দক্ষিণ পাশে একটি বাড়ির পাশের ডোবা থেকে এক বিধবা নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। হত্যার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট থানা।

এরও আগে ২৯ জুন সদর উপজেলার বিশ্বাস বেতকা এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে নাজমা আলম নাজুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, ঋণের চাপে থাকা স্থানীয় এক মসজিদের মুয়াজ্জিন মোশারফ হোসেন সোনা লুটের উদ্দেশ্যে ওই নারীকে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে।

একই দিনে নাগরপুর উপজেলার সহবতপুর ইউনিয়নের নলসন্ধ্যা গ্রামের বাসিন্দা শওকত মোল্লা (৫৫) নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর বিন্নাওঝা গ্রামের একটি পাটক্ষেত থেকে তার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায়ও তদন্ত চলছে।

অন্যদিকে, ২৯ জুন সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর মধ্যপাড়া এলাকায় কাঁঠাল পাড়াকে কেন্দ্র করে চাচাতো দুই ভাইয়ের মধ্যে সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন ছানোয়ার মিয়া। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের ভাই আব্দুল মজিদ বাদী হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

পরপর পাঁচটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত টহলের প্রয়োজন রয়েছে।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) বলেন, ‘প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনাই গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। কয়েকটি ঘটনায় ইতোমধ্যে অগ্রগতি হয়েছে। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।’