ভাঙ্গায় বাসচাপায় নিহত ৫, বিক্ষোভে ৬ গাড়িতে আগুন

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার সোয়াদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাসের চাপায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। শনিবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত সাতজন আহত হন। ঘটনার পর ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা মহাসড়কে বিক্ষোভ করেন এবং অন্তত ছয়টি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন। এতে মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ঢাকা থেকে খুলনাগামী একটি ডিম বোঝাই ট্রাক সোয়াদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে এর একটি চাকা ফেটে যায় এবং ট্রাকটি সড়কের ওপর উল্টে পড়ে। এতে ডিম ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন সেগুলো সংগ্রহ করতে সড়কে নেমে আসেন। এ সময় ঢাকা থেকে নড়াইলগামী নড়াইল এক্সপ্রেসের একটি যাত্রীবাহী বাস সড়কে থাকা লোকজনকে চাপা দেয়। ঘটনাস্থলেই পাঁচজনের মৃত্যু হয় এবং অন্তত সাতজন আহত হন।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভে মহাসড়ক অবরোধ করেন এবং অন্তত ছয়টি যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেন। এর ফলে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ডিমবোঝাই ট্রাকের চালক রয়েছেন। অপর নিহতদের মধ্যে সোয়াদী এলাকার লিটনের ছেলে জয়নাল (২৭), বাবলুর ছেলে আরিফ (২৭) এবং ওবায়দুর (৪০) রয়েছেন। ওবায়দুরের বাবার নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। নিহত অপর একজনের পরিচয়ও তখন পর্যন্ত নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। ট্রাকচালক ছাড়া নিহত ও আহত ব্যক্তিরা সবাই সোয়াদী ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দা। গুরুতর আহতদের ভাঙ্গা, ফরিদপুর এবং ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলালউদ্দিন বলেন, দুর্ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের সবার পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তিনি জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে।