গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বর্নি ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী বর্নি জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলুম মাদরাসা ও এতিমখানার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে মাঠে নেমেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।
গতকাল মাদরাসার জলাবদ্ধতার কারণে ৩৬০ শিক্ষার্থীর পাঠদান বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি ‘খবর সংযোগে’ প্রকাশের পর গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানীর নির্দেশে স্বেচ্ছাশ্রমে পানি নিষ্কাশনের উদ্যোগ নেয় স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা।
রোববার (১২ জুলাই) সকাল থেকেই ওই এতিম খানার ভিতরের ও মাঠের নিষ্কাশনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানীর নির্দেশে উপজেলা বিএনপি, যুবদল ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা সরেজমিনে মাদরাসায় উপস্থিত হয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেন। পরে পানি নিষ্কাশনের লক্ষ্যে সকাল ৯টা থেকে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে কার্যক্রম শুরু করেন তারা।
এর আগে টানা বর্ষণে মাদরাসার মাঠ ও শ্রেণিকক্ষ পানিতে তলিয়ে যায়। নূরানী বিভাগের শ্রেণিকক্ষে কোমরসমান পানি জমে শিক্ষার্থীদের বই-খাতা, বিছানাপত্র ও শিক্ষা উপকরণ নষ্ট হয়। ফলে টানা তিন দিন ধরে শিক্ষা কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল।
মাদরাসা কর্তৃপক্ষ জানান, প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ৩৬০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। এর মধ্যে নূরানী বিভাগে রয়েছে প্রায় ২০০ জন কোমলমতি শিশু। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত এতিম ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীরা এখানে আবাসিক ও অনাবাসিক হিসেবে পড়াশোনা করে।
আজকের উদ্যোগে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা যুবদলের সভাপতি এম. মুক্তার হোসেন, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আমিনুর ইসলাম, বর্নি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির, সাধারণ সম্পাদক অলিউর রহমান খান, যুবদল নেতা শামিম আহম্মেদ (টুটুল), শেহাব মোল্লাসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ সময় তাদের সঙ্গে সহযোগিতা করেন বর্নি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সামাদ মুন্সী।
মাদরাসা কর্তৃপক্ষ এ মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে বর্ষা মৌসুমে যাতে একই ধরনের দুর্ভোগের সৃষ্টি না হয়, সেজন্য স্থায়ীভাবে পানি নিষ্কাশনের ড্রেন নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেন।