গত বছরের ১৬ জুলাইয়ের সংঘর্ষের ঘটনা সামনে রেখে গোপালগঞ্জে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে জেলা প্রশাসন। বুধবার (১৫ জুলাই) সকাল থেকে জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) পাঁচ প্লাটুন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
২০২৫ সালের ১৬ জুলাই জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) গোপালগঞ্জ পৌর পার্কে পথসভা শেষে ফেরার পথে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলে।
সংঘর্ষে সভাস্থল থেকে শহরের বাজার এলাকা হয়ে পাচুড়িয়া পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুলি চালালে পাঁচজন নিহত হন এবং সাংবাদিক, পুলিশ সদস্যসহ শতাধিক ব্যক্তি আহত হন।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, বুধবার সকাল থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিজিবি সঙ্গে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব), পুলিশ ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্যরা যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। সাদা পোশাকেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা নজরদারি চালাচ্ছেন।
গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. আরিফ-উজ-জামান বলেন, গত বছরের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয়টি মাথায় রেখে জেলাজুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। কেউ যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য আমরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। আশা করছি, কোনো ধরনের অপ্রত্যাশিত ঘটনা ছাড়াই পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে।