একমাত্র ছেলের সুন্নাতে খতনাকে ঘিরে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান নয়, বরং এতিম ও মাদরাসার শিক্ষার্থীদের মুখে হাসি ফোটানোর উদ্যোগ নিয়েছেন টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। ছেলে মো. সাফারাত ওয়াসিত বিন সালাউদ্দিনের খতনা উপলক্ষে তিনি টাঙ্গাইল সদর উপজেলার চারটি মাদরাসা ও এতিমখানার প্রায় সাড়ে ৩ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য একবেলার খাবারের আয়োজন করেন।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুরে সদর উপজেলার ধুলেরচর, বেবিস্ট্যান্ড, বাজিতপুর ও ঘারিন্দা ইউনিয়নের তারটিয়া গ্রামের চারটি মাদরাসা ও এতিমখানায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে খাবার পরিবেশন করা হয়। এর আগে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও মুসল্লিদের অংশগ্রহণে দোয়া ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
নিজ সন্তানের খতনাকে ব্যক্তিগত উৎসবে সীমাবদ্ধ না রেখে এতিম ও মাদরাসার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনেকেই এটিকে সামাজিক দায়িত্ববোধ ও মানবিকতার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
দুপুরে ঢাকা থেকে টাঙ্গাইলে এসে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ঘারিন্দা ইউনিয়নের তারটিয়া গ্রামের জামিয়া আল-হেরা মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন।
নামাজের আগে মুসল্লিদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইসলামে খতনাকে কেন্দ্র করে অপচয় ও জাঁকজমকের পরিবর্তে সাদামাটা আয়োজনের শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। সেই ভাবনা থেকেই এতিম ও মাদরাসার শিক্ষার্থীদের জন্য খাবারের আয়োজন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমার একমাত্র ছেলে গুলশানের একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে পড়াশোনা করে। সেখানে ইসলামি শিক্ষারও ব্যবস্থা রয়েছে। এ বছর সে হেফজ শিক্ষা শুরু করেছে। সম্প্রতি তার খতনা সম্পন্ন হয়েছে। তাই অনুষ্ঠান না করে এতিম ও মাদরাসার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এই আনন্দ ভাগাভাগি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আজ আমিও তাদের সঙ্গে বসে একই খাবার খাব।’
এ সময় তিনি ছেলে ও পরিবারের সদস্যদের জন্য উপস্থিত মুসল্লিদের কাছে দোয়া কামনা করেন।
জুমার নামাজ শেষে প্রতিমন্ত্রী টুকু প্রায় শিক্ষার্থীর সঙ্গে একসঙ্গে বসে দুপুরের খাবার গ্রহণ করেন। শিক্ষার্থীদের মতো একই খাবার গ্রহণ করে তাদের সঙ্গে সময়ও কাটান তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মাহমুদুল হক শানু, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুর রহমান খান শফিক, কেন্দ্রীয় যুবদলের সদস্য আব্দুল্লাহিল কাফিসহ স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী, মসজিদের ইমাম, মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় মুসল্লিরা।