কাপাসিয়ায় প্রাথমিকে প্রধান শিক্ষকের ১০৬ পদ শূন্য

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষক সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। উপজেলার ১৭৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১০৬টিতেই প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। এসব বিদ্যালয়ের ৪৯টিতে সহকারী শিক্ষকদের চলতি দায়িত্ব এবং ৫৭টিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক দায়িত্বও পালন করতে হচ্ছে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের। এতে তাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে এবং বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনাও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, কাপাসিয়ায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১৭৯টি। এর মধ্যে ১০৬টি বিদ্যালয়ে নিয়মিত প্রধান শিক্ষক নেই। ৪৯টি বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকরা চলতি দায়িত্বে এবং ৫৭টি বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

শিক্ষক ও অভিভাবকদের ভাষ্য, বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমন্বয়, সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন, দাপ্তরিক কার্যক্রম এবং একাডেমিক নেতৃত্বের ক্ষেত্রে প্রধান শিক্ষকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু পদ শূন্য থাকায় এসব দায়িত্ব অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদেরই পালন করতে হচ্ছে।

ডাওড়া জেবি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষক নেতা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করতে হয়। একই সঙ্গে দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক কাজও করতে হয়। এতে দায়িত্বের চাপ বেড়ে যায়। দ্রুত শূন্য পদগুলোতে নিয়মিত প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।’

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রমিতা ইসলাম বলেন, ‘কাপাসিয়া উপজেলায় প্রধান শিক্ষকের ১০৬টি পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে ৪৯টি বিদ্যালয়ে চলতি দায়িত্ব এবং ৫৭টি বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দায়িত্ব পালন করছেন। শূন্য পদ পূরণের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পদগুলো পূরণ হলে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।’

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও বিদ্যালয়ের সার্বিক ব্যবস্থাপনা কার্যকর রাখতে প্রতিটি বিদ্যালয়ে নিয়মিত প্রধান শিক্ষক থাকা জরুরি। শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ করা হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমেও আরও গতি আসবে।