ধর্ষণের অভিযোগে শ্রমিক নেতা গ্রেপ্তার, বিচার দাবিতে মানববন্ধন

গাজীপুর মহানগরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় পাওনা রিজাইনের টাকা তুলে দেওয়ার কথা বলে এক নারী পোশাক শ্রমিককে ধর্ষণ অভিযোগে শ্রমিক নেতা শফিউল আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন গাজীপুরের বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস এলাকায় এই মানববন্ধন করা হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা নারী শ্রমিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দ্রুত অভিযোগপত্র দাখিল এবং দ্রুততম সময়ে বিচার সম্পন্ন করে দোষী প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।

বক্তারা বলেন, সারাদেশে শিশু ও নারীসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ যৌন সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। এসব ঘটনায় দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত না হলে অপরাধীরা আরও উৎসাহিত হবে। একজন নারী শ্রমিক তার ন্যায্য পাওনা আদায়ের আশায় শ্রমিক নেতার কার্যালয়ে গিয়ে যদি নির্যাতনের শিকার হন, তাহলে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়েও বড় প্রশ্ন দেখা দেয়।

বক্তারা সরকারের কাছে দাবি জানান, মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করে ৩০ দিনের মধ্যে অভিযোগপত্র এবং ৯০ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করতে হবে। একই সঙ্গে দোষী প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত এবং দেশের সব কর্মক্ষেত্রে নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

উল্লেখ্য, ভুক্তভোগী নারী কোনাবাড়ীর একটি কসমেটিকস কারখানায় প্রায় পাঁচ বছর কাজ করার পর পাওনা রিজাইনের টাকা না পেয়ে শ্রমিক নেতা শফিউল আলমের কাছে অভিযোগ করেন। গত ২৩ আগস্ট রাতে পাওনা টাকা দেওয়ার কথা বলে তাকে চান্দনা চৌরাস্তার একটি শ্রমিক সংগঠনের কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয়। পরে ভুক্তভোগী গাজীপুর মেট্রোপলিটন বাসন থানায় মামলা করেন।

গ্রেপ্তার শফিউল আলম লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী থানার চন্ডিমারী এলাকার মো. সিরাজুল ইসলামের ছেলে। তিনি চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করেন এবং বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের গাজীপুর মহানগর কমিটির সভাপতি বলে জানা গেছে।

এদিকে মানববন্ধনে উপস্থিত শ্রমিক নেতারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবি জানান। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হলে শ্রমিক সংগঠনগুলো পরবর্তী শ্রমিকদের নিয়ে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করবে।