টাঙ্গাইলের নাগরপুরে মাদক কেনার টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে ছেলের হামলায় আব্দুর রহিম ভূঁইয়া (৫৫) নামে এক ভ্যানচালক নিহত হয়েছেন।
রোববার (৩০ আগস্ট) সকালে উপজেলার বেকড়া ইউনিয়নের কোনাবাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আব্দুর রহিম ভূঁইয়া ওই গ্রামের বাসিন্দা। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাগরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহুরুল ইসলাম।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার সকালে আব্দুর রহিম ভূঁইয়া বাড়িতে বসে খাবার খাচ্ছিলেন। এ সময় তাঁর ছেলে মোস্তফা বাবার কাছে টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে দেরি হওয়ায় একপর্যায়ে পাশে থাকা মসলা বাটার শিল দিয়ে বাবার মাথায় আঘাত করেন তিনি। এতে গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই আব্দুর রহিম ভূঁইয়ার মৃত্যু হয় বলে স্থানীয়রা জানান।
নিহতের স্ত্রী শিরিন বেগম বলেন, মোস্তফা দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। প্রায় ছয় মাস আগে দেলদুয়ার উপজেলার লাউহাটি গ্রামের এক তরুণীকে বিয়ে করেন তিনি। বিয়ের পর স্ত্রীকে নির্যাতন করায় তিনি বাবার বাড়িতে চলে যান। মাদকের টাকার জন্য মোস্তফা প্রায়ই পরিবারের সদস্যদের ওপর নির্যাতন করতেন। ঘটনার দিনও টাকা চাওয়ার একপর্যায়ে তাঁর স্বামীকে শিল দিয়ে মাথায় আঘাত করেন।
শিরিন বেগম বলেন, ‘আমরা মোস্তফার উপযুক্ত বিচার চাই। তাকে আইনের আওতায় না আনা হলে আমাদের পরিবারের অন্য সদস্যরাও নিরাপদ থাকবে না।’
নিহতের মেয়ে সালমা বলেন, তাঁর ভাই দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। অতিরিক্ত মাদক সেবনের কারণে তাঁর আচরণেও পরিবর্তন এসেছে। পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি দেখাতেন তিনি। মাদকের টাকা দিতে দেরি হলেই পরিবারের সদস্যদের ওপর নির্যাতন চালাতেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল কুদ্দুস বলেন, মোস্তফা দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত এবং এ কারণে পরিবারের সদস্যরা তাঁর কাছে অনেকটা অসহায় ছিলেন। ঘটনার দিনও তিনি বাবার কাছে টাকা চান। আব্দুর রহিম তখন খাবার খাচ্ছিলেন। টাকা দিতে দেরি হওয়ায় মোস্তফা ক্ষিপ্ত হয়ে পাশে থাকা মসলা বাটার শিল দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করেন। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং পরে মারা যান।
নাগরপুর থানার ওসি জহুরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আব্দুর রহিম ভূঁইয়ার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার পর তাঁর ছেলে মোস্তফা পালিয়ে গেছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।