মধুমতির ভাঙনে বিলীন আশ্রয়ণ প্রকল্প ও গুচ্ছগ্রাম

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের চাপুলিয়া এলাকায় মধুমতি নদীর ভয়াবহ ভাঙনে সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্প ও গুচ্ছগ্রামের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। শেষ সম্বল হারিয়ে অনেক পরিবার এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মধুমতি নদী থেকে অবৈধ ও অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর গতিপথ পরিবর্তনের পাশাপাশি স্রোতও তীব্র হয়েছে। এতে নদীভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। দ্রুত অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করে ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে চাপুলিয়া গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

ভাঙন রোধে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, স্থায়ী নদী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

গত শনিবার মধুমতি নদীর তীরে স্থানীয় তরুণ আকিব আহমেদের আহ্বানে আয়োজিত কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি মাওলানা শরিফুল ইসলাম জুয়েল, স্থানীয় বাসিন্দা নিয়ামুল মোল্যা, তাইফুর হোসেন, সোহাগ মোল্যাসহ অনেকে।

বক্তারা অভিযোগ করেন, পাশের নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার ড্রেজার ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে মধুমতি নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন। এতে নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন তীব্র হয়েছে। তাঁদের ভাষ্য, একসময় নদী থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে থাকা গুচ্ছগ্রামটি এখন পুরোপুরি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১১-১২ অর্থবছরে চাপুলিয়া গ্রামের সরকারি খাসজমিতে ১৩০টি পরিবারের জন্য গুচ্ছগ্রামটি নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের সময় এটি মধুমতি নদী থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে ছিল। ২০২১ সাল থেকে ভাঙন শুরু হলে ধীরে ধীরে গুচ্ছগ্রামের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হতে থাকে।

গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দাদের অনেকেই আগে থেকেই ভূমিহীন ও গৃহহীন ছিলেন। সরকারি উদ্যোগে তারা মাথা গোঁজার ঠাঁই পেলেও নদীভাঙনে সেই আশ্রয়ও হারিয়েছেন। বর্তমানে কেউ আত্মীয়ের বাড়িতে, কেউ রাস্তার পাশে আবার কেউ খোলা আকাশের নিচে পরিবার নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন।

টগরবন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিয়া আসাদুজ্জামান বলেন, অসহায় মানুষগুলোর চোখের সামনে তাঁদের ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। তাঁদের জন্য দ্রুত সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মজিবর রহমান বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকা রক্ষায় একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে স্টাডি রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ড. ইলিয়াস মোল্লা বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভুক্তভোগী বাসিন্দাদের দাবি, সাময়িক সহায়তার পাশাপাশি মধুমতির ভাঙন স্থায়ীভাবে ঠেকাতে দ্রুত নদী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করতে হবে। একই সঙ্গে নদীগর্ভে ঘরবাড়ি হারানো পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।