জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় সাধারণ গ্রাহক, যানবাহনচালক ও কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দাম বৃদ্ধির প্রভাব পরিবহন ও কৃষিকাজের ব্যয়ে পড়তে শুরু করায় সংসার চালানো এবং উৎপাদন খরচ সামলানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন অনেকে।
দাম বাড়ার পর টুঙ্গিপাড়া উপজেলার একমাত্র ফিলিং স্টেশন ও পাম্পে আগের তুলনায় যানবাহনের উপস্থিতিও কমেছে। আগে যেখানে তেল নিতে দীর্ঘ সারি দেখা যেত, এখন সেই চিত্র নেই। পাম্পসংশ্লিষ্টরা জানান, যানবাহন আসছে, তবে অধিকাংশ চালক আগের তুলনায় কম পরিমাণে জ্বালানি কিনছেন।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) টুঙ্গিপাড়ার ফিলিং স্টেশন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় যানবাহনের চাপ বেশ কম। মাঝেমধ্যে কয়েকটি যানবাহন জ্বালানি নিতে এলেও দীর্ঘ অপেক্ষার দৃশ্য চোখে পড়েনি। পাম্পকর্মীদেরও তুলনামূলক অলস সময় কাটাতে দেখা যায়।
যানবাহনচালকদের ভাষ্য, তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শুধু গাড়ি চালানোর খরচই বাড়ে না, যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের ব্যয়ও বেড়ে যায়। আয় একই থাকলেও জ্বালানি ও অন্যান্য খরচ বাড়ায় বাড়তি ব্যয় সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।
তেলের দাম বৃদ্ধিতে কৃষকদের মধ্যেও উদ্বেগ বেড়েছে। সেচ, জমি প্রস্তুত, ফসল কাটা ও পরিবহনসহ কৃষিকাজের বিভিন্ন পর্যায়ে ডিজেল ব্যবহৃত হয়। কৃষকদের আশঙ্কা, ডিজেলের দাম বাড়ায় উৎপাদন ও ফসল পরিবহনের খরচ আরও বাড়বে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত কৃষিপণ্যের দামে পড়তে পারে।
টুঙ্গিপাড়ার কৃষক আ. কাশেম বলেন, কৃষিপণ্যের ন্যায্য দাম পাওয়াই কঠিন হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে ডিজেলের দাম বাড়লে সেচ ও পরিবহন ব্যয় আরও বাড়বে। অতিরিক্ত এই খরচ শেষ পর্যন্ত কৃষকদেরই বহন করতে হবে।
সাধারণ গ্রাহকদের আশঙ্কা, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে পরিবহন ব্যয় বেড়ে গেলে তার প্রভাব পড়বে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও। দূর-দূরান্ত থেকে পণ্য পরিবহনে খরচ বাড়লে বাজারে পণ্যের দামও বাড়তে পারে। এতে মূল্যবৃদ্ধির চাপ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন তাঁরা।
স্থানীয় বাসিন্দা ও চালকদের দাবি, কৃষি উৎপাদন, পরিবহন খরচ এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে দাম পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। তাঁদের মতে, জ্বালানির বাড়তি খরচ শুধু পরিবহন খাতেই সীমাবদ্ধ থাকে না; এর প্রভাব ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে।