নরসিংদী শহরের চৌয়ালা এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে বাবু ওরফে আব্দুল্লাহ (২৬) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার ভাইসহ আরও দুজন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে চৌয়ালা এলাকার লোকমান হোসেন পৌর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পেছনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত বাবু ও আহত তার ভাই রুবেল (৩০) ওই এলাকার আবদুল কাদেরের ছেলে। আহত অপর ব্যক্তি মিরাজ (২০) একই এলাকার জাকির হোসেনের ছেলে এবং তিনি প্রতিপক্ষের সঙ্গে ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চৌয়ালা এলাকায় হেলাল ও আবু লাল গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধের জেরে বিভিন্ন সময়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে বিরোধ আরও বেড়ে যায়। গত বুধবার আবু লাল গ্রুপের লোকজন হেলাল গ্রুপের শফিকুল নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে আহত করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে বাবুসহ কয়েকজন শফিকুলকে হাসপাতালে নিয়ে যান। এর জেরে শুক্রবার বিকেলে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষের একপর্যায়ে গুলিতে বাবু গুরুতর আহত হন। এ সময় তার ভাই রুবেল ও মিরাজও আহত হন। স্থানীয়রা তিনজনকে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বাবুকে মৃত ঘোষণা করেন। রুবেলকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। গুরুতর আহত মিরাজকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নিহতের ভাই রুবেল অভিযোগ করেন, এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই আবু লাল ও হেলাল গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। শুক্রবার বিকেলে আবু লাল ২০ থেকে ২৫ জন লোক নিয়ে তার ভাইকে গুলি করেন বলে দাবি করেন তিনি। ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে নিজেও আহত হয়েছেন বলে জানান রুবেল। ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি করেন তিনি।
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আহত মিরাজ। তার দাবি, বিকেলে তিনি বন্ধুদের সঙ্গে এলাকায় ঘুরছিলেন। এ সময় বাবু এসে তার হাতে কোপ দেন। পরে ব্যথায় মাটিতে পড়ে গেলে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। বাবুর সঙ্গে তার কোনো শত্রুতা ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি।
নরসিংদী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. খায়রুল ইসলাম জানান, তিনজনকে হাসপাতালে আনা হলে বাবুকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। মিরাজকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। রুবেলকে চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাবুর বুক ও হাতে আঘাতের চিহ্ন ছিল। আর মিরাজের দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে।
নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ আর এম আল মামুন বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন নিহত ও দুজন আহত হয়েছেন। আহত মিরাজকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। নিহত বাবুর বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।