প্রতিটি পূজামণ্ডপে পাহারার ব্যবস্থার আহ্বান তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

শারদীয় দুর্গাপূজায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রতিটি পূজামণ্ডপে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে পাহারার ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি বলেছেন, নিষিদ্ধ সংগঠন বা কোনো গুপ্ত গোষ্ঠী যেন পূজামণ্ডপে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, আজান ও নামাজের সময়সূচি উল্লেখ করে একটি চার্ট প্রতিটি পূজামণ্ডপে পৌঁছে দিতে হবে, যাতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পূজার কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন।

রোববার (১১ অক্টোবর) সকালে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পূজামণ্ডপ চিহ্নিত করতে পারে। তবে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের কাছে প্রতিটি পূজামণ্ডপই গুরুত্বপূর্ণ। তাই যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের রোস্টার করে পাহারার ব্যবস্থা করতে হবে। এ কাজে অন্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদেরও সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় সিসিটিভি ক্যামেরা সচল রাখা এবং ধারণ করা ভিডিও সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেন ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি বলেন, প্রতিটি মণ্ডপের সিসিটিভি ক্যামেরার রেকর্ড যেন সংরক্ষিত থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। পাশাপাশি বৈদ্যুতিক আগুনসহ বিভিন্ন ধরনের অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলায় উপযোগী অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রাখার নির্দেশনা দেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পূজা নিয়ে অপপ্রচার ও ধর্মীয় অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা প্রতিরোধে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে বিভিন্ন রিলস ও ভিডিও তৈরি করা হচ্ছে।

এছাড়া অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসনকে নির্দেশনা দেন তিনি। বৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের কাগজপত্র যাচাই এবং পূজামণ্ডপে যাওয়ার সড়কে কোনো সমস্যা থাকলে তা দ্রুত প্রশাসনকে জানানোর আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। সড়কের সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।

সভায় কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. জালাল উদ্দিন, কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালসহ জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তা, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা এবং সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।