টঙ্গীতে কারখানায় লুটের ঘটনায় ছয় দিনেও মামলা হয়নি

গাজীপুরের টঙ্গীতে একটি পোশাক কারখানায় ঢুকে মালামাল লুট, গাড়িচালককে জোর করে নিয়ে যাওয়া ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার ছয় দিন পরও মামলা হয়নি বলে জানিয়েছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। তবে পুলিশ বলছে, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। গত ৭ অক্টোবর দুপুরে টঙ্গী পূর্ব থানার বিসিক শিল্প এলাকার গ্লিমার ফ্যাশনস লিমিটেডে এই লুটের ঘটনা ঘটে।

কারখানার ডেপুটি ম্যানেজার মো. লিয়াকত হোসেনের লিখিত অভিযোগে ৭ জনের নাম উল্লেখ করে বলা হয়,তারাসহ অজ্ঞাতনামা আরও তিন থেকে চারজন কারখানায় প্রবেশ করেন। এ সময় তারা কারখানার স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটানোর পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে ভয়ভীতি ও জীবননাশের হুমকি দিয়ে কারখানার সামনে থাকা একটি কাভার্ড ভ্যানে তোলা প্রায় পাঁচ লাখ টাকা মূল্যের কাপড়সহ গাড়িচালককে জোর করে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে চালককে মারধর করে আটকে রাখা হয়। 

অন্য একটি গাড়িতে করে কিছু মালামাল কারখানার সামনে রেখে যাওয়ার কথাও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানের সরবরাহকারী মো. সোহেলকে মারধর ও তার সঙ্গে অশালীন আচরণের অভিযোগ করা হয়েছে। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। কারখানা কর্তৃপক্ষের দাবি, ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা রয়েছে। তদন্তের প্রয়োজনে সিসিটিভি ফুটেজ, মালামালের চালান, ডেলিভারি ডকুমেন্ট ও ইনভয়েসসহ প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণ দেওয়ার কথাও জানিয়েছে তারা।

গ্লিমার ফ্যাশনস লিমিটেডের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর মামলা করতে তারা একাধিকবার টঙ্গী পূর্ব থানায় গিয়েছেন। কিন্তু ছয় দিন পার হলেও মামলা হয়নি। তার অভিযোগ, থানায় গেলে অভিযুক্ত একজনের নাম বাদ দিয়ে অভিযোগ দিতে বলা হয়। পাশাপাশি ঘটনাটিকে লুটপাটের অভিযোগ হিসেবে না নিয়ে চুরির মামলা করতে বলা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকসুদুল আলম বলেন, ঘটনার সময় অভিযোগে উল্লেখিত একজন ঢাকার বাইরে ছিলেন। সিসিটিভি ফুটেজেও তাকে দেখা যায়নি। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। তারপরও বিষয়টি তদন্ত করা হবে। যারা অপরাধ করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে মামলা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চুরির মামলা করতে বলার অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি মাকসুদুল আলম বলেন, ‘চুরির মামলা করার বিষয়টি আমি বলিনি। তারা থানায় এসে মামলা করুক। সিসিটিভি ফুটেজে যাদের দেখা যাচ্ছে, তাদের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’