প্রমত্তা পদ্মার কড়াল গ্রাসে ভিটেমাটি ও ফসলি জমি হারিয়ে ভেঙে পড়েছিলেন ফরিদপুরের চারটি চরের বাসিন্দারা। তবে প্রকৃতির রুদ্ররূপ ভুলে চরের বালুময় মাটিতেই এখন সুদিনের স্বপ্ন বুনছেন তারা। দিগন্ত বিস্তৃত মাঠে এখন সবুজ পাতার সমারোহ; চরের জমিতে চাষ হয়েছে আগাম জাতের ফুলকপি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও হয়েছে বেশ। ভালো দাম পেয়ে লোকসান কাটিয়ে লাভের মুখ দেখার আশায় এখন চরের কৃষকদের মুখে ফুটেছে হাসি।
ফরিদপুর সদর উপজেলার ভাটী এলাকা, গোয়ালন্দের উজানচর, মাইজা মিয়ার ডাঙ্গী, কামারডাঙ্গী, কবিরপুরসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলে এবার ব্যাপকভাবে আগাম ফুলকপি, বাঁধাকপি, মিষ্টি কুমড়াসহ নানা জাতের শাক-সবজির আবাদ হয়েছে। কয়েকদিনের মধ্যেই এসব ফুলকপি বাজারে উঠতে শুরু করবে। মৌসুমের শুরুতে বাজারদর চড়া থাকায় বাড়তি উপার্জনের আশায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চাষিরা আগাম সবজি চাষের দিকে বেশি ঝুঁকছেন।
চাষিরা জানান, আগাম ফুলকপিতে সাধারণ সময়ের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি দাম পাওয়া যায়। কৃষক রাশেদ মিয়া জানান, এবার তিনি ১০ বিঘা জমিতে আগাম ফুলকপি আবাদ করেছেন। বিঘা প্রতি প্রায় ৭০ হাজার টাকা খরচ হলেও বাজার ভালো থাকলে ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রির আশা করছেন তিনি। চরের এসব সবজি সরাসরি রাজধানীর কারওয়ান বাজার, বাইপাইল ও যাত্রাবাড়ীর আড়তদাররা কিনে নিয়ে যান। রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শত শত কৃষিশ্রমিক কাজের তাগিদে এখন অবস্থান করছেন এসব চরাঞ্চলে।
ভালো ফলনের আনন্দের মাঝেও কিছু শঙ্কা কাজ করছে চাষিদের মধ্যে। বীজ, সার ও কীটনাশকের বাড়তি দামের কারণে তাদের উৎপাদন খরচ অনেকটাই বেড়ে গেছে। বাজারে বীজ সিন্ডিকেটের কারণে দাম স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি বলে অভিযোগ কৃষকদের। সেই সাথে কৃষি বিভাগের মাঠপর্যায়ের সহায়তা ও প্রণোদনা নিয়ে কিছুটা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অনেকে।
ফরিদপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় মোট ২৪ হাজার ১২৭ হেক্টর জমিতে সবজির আবাদ হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমিতেই করা হয়েছে আগাম জাতের সবজি চাষ। ফরিদপুরের সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকা এবং সঠিক পরিচর্যায় পোকামাকড়ের আক্রমণ না হওয়ায় এবার আগাম ফুলকপির বাম্পার ফলন হয়েছে। অধিক লাভজনক হওয়ায় প্রতিবছরই চরাঞ্চলে এই সবজির আবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে।