ছাগলকাণ্ডে ফেঁসে যাওয়া সরকারি কর্মকর্তা মতিউর রহমানের প্রথম স্ত্রী নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান লায়লা কানিজ লাকি তিন কর্মদিবস অনুপস্থিত। তার মুঠোফোনও বন্ধ। তিনি কোথায়, কি অবস্থায় রয়েছেন তা কেউ বলতে পারছেন না। রোববার (২৩ জুন) উপজেলা পরিষদে গিয়ে দেখা যায় অফিস তালাবদ্ধ।
এ বিষয়ে উপজেলা পরিষদের অফিস সহকারী আল মাসুদ বলেন, চেয়ারম্যান মহোদয় ঈদের পর থেকে অফিসে আসছেন না। জানতে পারি তিনি ছুটিও নেননি, দেশেই অবস্থান করছেন। কবে আসবেন তাও জানি না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন চেয়ারম্যান লায়লা কানিজ লাকির কর্মদিবস অনুপস্থিত থাকার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, রোববার ছিল মাসিক সমন্বয়ক সভা। তিনি ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে আসতে পারবেন না বলেছেন। গত তিন কর্মদিবস তিনি অফিসে আসেননি।
স্থানীয়রা জানান, নরসিংদীর রায়পুরার মরজালের লায়লা কানিজের বাবা কফিল উদ্দিন আহম্মদ ছিলেন একজন খাদ্য কর্মকর্তা। তার চার মেয়ে ও দুই ছেলের মধ্যে লায়লা কানিজ সবার বড়। পৈতৃক সম্পত্তিতে পূর্বে তেমন ভালো কোনো দালান ছিল না। প্রায় দুই বছর আগে তিনি বাড়িতে বিদেশিদের আদলে বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স বাড়ি নির্মাণ করেন। বাড়িটিতে দৃষ্টি নন্দিত ফটক সীমানা প্রাচীর সান বাঁধানো ঘাট, নানান ফুলেল বাগান রয়েছে। বাড়িটির ভেতরে রাজকীয় সব আসবাবপত্র ও দামি জিনিসপত্রও রয়েছে। মরজালে ওয়ান্ডার পার্ক ও ইকু রিসোর্ট কয়েকশত বিঘা জমির উপর দৃষ্টি নন্দন বিলাসবহুল স্থাপনা এবং পুকুর, নানান ভাস্কর্য, বিনোদন সরঞ্জামাদী রয়েছে। যার মূল্য কয়েক কোটি টাকা।
এ ছাড়াও ঢাকা গাজীপুরসহ বিভিন্ন স্থানে নামে বেনামে প্লট জমি রয়েছে। বাড়ির সামনে ‘লায়লা কানিজ লাকি সড়ক’ নামে সড়ক রয়েছে। পূবাইলে আপন ভূবন পিকনিক ও সুটিং স্পট রয়েছে। এ নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে জন সম্মুক্ষে দেখা যাচ্ছে না তাকে।
আরও জানা যায়, মতিউর রহমানের শ্বশুরবাড়ি নরসিংদীতে প্রথম স্ত্রী ও সন্তানের নামে অঢেল সম্পত্তি গড়েছেন। তার প্রথম স্ত্রী লায়লা কানিজ লাকি ঢাকার সরকারি তিতুমীর কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ছিলেন। শিক্ষকতা পেশা ছেড়ে রাতারাতি রাজনীতিতে যোগ দিয়ে রাজনৈতিক নেত্রী বনে জান। রাজনীতিতে প্রথমে রায়পুরা উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হন। স্থানীয় সংসদ সদস্য রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু এমপির ঘনিষ্ঠ আস্থাবাজন হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। জেলাজুড়ে দানবীর হিসেবে সর্ব মহলে প্রশংসিত পরিচিতি লাভ করেন। ২০২২ সালে নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুস ছাদেক এর মৃত্যুতে উপনির্বাচনে প্রভাবশালী স্বামীর অর্থের প্রভাবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এ ছাড়াও নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও দুর্যোগবিষয়ক সম্পাদকের পদ নেন। সর্বশেষ নরসিংদী জেলা পরিষদ নির্বাচনের আওয়ামী লীগের দলীয় নৌকার মনোনয়ন পদপ্রত্যাশী ছিলেন।
চলতি বছর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সংরক্ষিত নারী আসন (নরসিংদী গাজীপুর আসন) পেতে দলীয় কার্যালয়ে মনোনয়ন ফরম জমা দেন। বর্তমানে তিনি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে গত ২৯ মে (টেলিফোন) প্রতিক নিয়ে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা ছিল। কিন্তু ২২ মে এক ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে তা স্থগিত করে দেয় নির্বাচন কমিশন।
চেয়ারম্যান লায়লা কানিজ লাকির মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়ে উঠেনি।