গর্ভধারণ ছাড়াই প্রতিদিন ৩ লিটার দুধ দিচ্ছে বকনা বাছুর!

একটা পূর্ণ বয়স্ক গাভি দুধ দিবে এটাই তো স্বাভাবিক। তবে বকনা বাছুর যদি গর্ভধারণ ছাড়া দুধ দেয়, বিষয়টি অস্বাভাবিক নয় কি! এমনি এক ঘটনা ঘটেছে শরীয়তপুরে। যেখানে ১৮ মাস বয়সী একটি বাছুর থেকে পাওয়া যাচ্ছে ৩ লিটার দুধ। আর এই খবর চারদিকে চাউর হতেই সেই দুধ নিতে ভিড় জমাচ্ছেন দূর-দূরান্তের লোক। স্থানীয়রা বলছেন এটি অলৌকিক শক্তি, আর চিকিৎসক বলছেন হরমোনের প্রভাব।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দুধ দেয়া বকনা বাছুরটি জাজিরা উপজেলার পালেরচর ইউনিয়নের কাথুরিয়া মধু মাদবর কান্দি এলাকার হুমায়ূন শরীফের। ৪ বছর আগে হাট থেকে একটি দেশীয় জাতের গাভি ক্রয় করে নিয়ে আসেন তিনি। এরপর গাভিটি পর্যায়ক্রমে দুটি বাচ্চা প্রসব করে। বড় বাছুরটি আগেই বিক্রি করে দেওয়া হয়। এরপর কিনে আনা গাভিটিও বিক্রি করে দেন মালিক। তবে গাভিটির সবার শেষের যেই বাছুরটি রয়েছে, সম্প্রতি সেটির গর্ভধারণ ছাড়াই হঠাৎ করেই বাট ফুলে যায়। এরপর থেকে নিয়মিত সেই বাছুরটির স্তন থেকে দুধ সংগ্রহ করেন গরুটির মালিক হুমায়ূন শরীফ। 

প্রথম অল্প পরিমাণে দুধ দোহন করলেও বর্তমানে গাভিটি প্রতিদিন ৩ লিটার করে দুধ দেয়। স্থানীয়দের ধারণা বিষয়টি অলৌকিক এবং এই দুধ খেলে মিলবে সব সমস্যার সমাধান। এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনা মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়লে দলে দলে সেই দুধ নিতে ভিড় করছেন দূর-দূরান্তের লোকজন। প্রতিদিন ভোরবেলা শতাধিক লোকের মাঝে বিতরণ করা হয় সেই দুধ। খুশি হয়ে যে যাই অর্থ দিচ্ছে তাই নিচ্ছেন গরুর মালিক।

হুমায়ুন শরীফের প্রতিবেশী নাজমা বেগম বলেন, প্রতিদিন অনেক দূর থেকে মানুষ আসে দুধ নিতে। তারা উপকার পেয়ে অন্যকে বলার পরে তারাও এই বাছুরের দুধ নিতে ছুটে আসছে। আমি নিজেও এই দুধ খেয়েছি। খেতে খুবই মিষ্টি। 

স্থানীয় বাসিন্দা আবুল বাসার বলেন, আমার বাড়ির পাশের হুমায়ূন শরীফের একটি বাছুর দুধ দেয় বিষয়টি আমার কাছে অলৌকিক মনে হয়েছে। তাই আমি দেখতে গেলে দেখি বাছুরটি থেকে সত্যিই দুধ দোহন করা হচ্ছে। এটি আসলেই বিরল ঘটনা, যা আমি আমার বয়সে দেখিনি। পরে আমিও সেই দুধ খেয়েছি।

আরাফাত নামের এক ব্যক্তি বলেন, প্রতিনিয়ত এই বাছুরের দুধ নিতে শতাধিক মানুষ বোতল নিয়ে ভিড় করে।

বাছুরের মালিক দুধের কোনো মূল্য নির্ধারণ করেননি। খুশি হয়ে যে যা দিয়ে যাই, তাই তিনি গ্রহণ করেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য শেরে বাংলা শরীফ বলেন, কয়েকদিন আগেও দেখেছি বাছুরটি অনেক ছোট। হঠাৎ দেখতে পাই সেই বাছুরটি দুধ দিচ্ছে। তবে এটি এখনো গর্ভধারণ করেনি। স্থানীয় একজন এই দুধ খেয়ে উপকার পাওয়ার পর এখন দলে দলে লোকজন এই দুধ নিতে ভিড় জমাচ্ছে। এটি আল্লাহর রহমত ছাড়া সম্ভব নয়।

তবে এটি স্বপ্নাদেশে পাওয়া দাবি করে ক্যামেরার সামনে কোনো কথা বলতে রাজি হয়নি গরুর মালিক ও তার স্ত্রী।

এ ব্যাপারে জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ডা. মো. আবু বকর সিদ্দিক বলেন, জাজিরা উপজেলার যেই ১৮ মাস বয়সী বকনা বাছুর দুধ দিচ্ছে তা মূলত হরমোনাল ইনব্যালেন্সের কারণে হচ্ছে। ইতোপূর্বেও আমরা বেশ কয়েকটি জায়গায় দেখেছি। এটা কোনো রোগ কিংবা সমস্যা না।