ভাঙ্গায় আ. লীগের সাবেক ২ এমপির নেতাকর্মীরা যোগ দিলেন বিএনপিতে

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় গত কয়েকদিন ধরে বিএনপিতে যোগদানের হিড়িক লেগেছে। সাবেক ২ সংসদ সদস্য কাজী জাফর উল্লাহর বেয়াই জাহাঙ্গীর মাতুবর থেকে শুরু করে শেখ হাসিনার ভাতিজা মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সনের আস্থাভাজন শত শত নেতাকর্মীরা বিএনপির রাজনীতির সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে দলে যোগদান করছেন।

পিছিয়ে নেই উপজেলা বিএনপির রাজনীতি করেও গত ১৭ বছর যারা আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতে বাধ্য হয়েছিলেন সেই নেতা ও তাদের পরিজনরা। সবমিলিয়ে আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত ভাঙ্গায় বিএনপির রাজনীতি বেশ চাঙ্গা হয়ে উঠেছে।

বিশেষ করে ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী ভাঙ্গা থানার পৃথক দুটি মামলার পলাতক আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ছাড়া অনেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির সাথে যোগদান করছেন। অনেকাংশ আবার বিএনপির নেতৃত্বের উপর আস্থাশীল হয়ে যোগদানের গোপন লবিংয়ে এগিয়ে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও ফরিদপুর ৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বাবুল খানকে ফুলের তোড়া উপহার হিসেবে তুলে দিয়ে শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত এবং বাবুল খানের প্রতি আস্থাশীলতায় চলছে যোগদানের হিড়িক।

ভাঙ্গা আওয়ামী লীগের ঘাঁটি ভেঙে বিএনপির ঘাঁটিতে পরিণত হয়ে উঠছে বলে অভিমত উপজেলা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলের।

তারা বলছেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভাঙ্গা উপজেলাসহ অপরাপর দুটি উপজেলায় বিএনপির নেতৃত্ব ধারায় কিছুটা কৌশল অবলম্বন করে আওয়ামী পন্থীদের ভোটের মাঠের হাওয়ায় বিএনপিতে ডাকছেন।

কেউ গোপনে লবিং করছেন, কেউ কেউ সরাসরি স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যস্থতায় যোগদান করছেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির নেতৃবৃন্দরা।

মূলত বিএনপির টার্গেট ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভাঙ্গা উপজেলাকে বিএনপির ঘাঁটিতে পরিণত করার মধ্যে দিয়ে লেবেল ফিল্ডের রাজনীতিকে তারা প্রাধান্য দিচ্ছে বলে অভিমত অভিজ্ঞ রাজনৈতিক মহলের।

সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, গতকাল সন্ধ্যায় শ্রমিক ইউনিয়ন অফিসে বাংলাদেশ শহিদুল ইসলাম বাবুল খানের সাথে পৌরসভার পূর্ব হাসামদিয়া মহল্লাসহ পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের ৫ শতাধিক আওয়ামী লীগ ও সাবেক সংসদ সদস্য নিক্সন চৌধুরীর নেতাকর্মীরা ভাঙ্গা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন নেতা ও কাজী জাফর উল্লা প্রেসিডিয়াম সদস্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বেয়াই জাহাঙ্গীর মতব্বরের নেতৃত্বে যোগদান করেন।

এর আগে মঙ্গলবার রাতে বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয় নওপাড়াতে পৌরসভার সাবেক কমিশনার জহুরুল হক মিঠু, বজলু মাতুব্বর ও বিশিষ্ট বাস ব্যবসায়ী আলমগীর মোল্লা, কালাম মেম্বার, আইয়ুব মাতব্বর ও আইয়ুব মুন্সীসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের নিক্সন সেনা এবং কাজী জাফর উল্লার ২ শতাধিক নেতাকর্মীরা বিএনপিতে যোগদান করেন।

এদিন কমিটি গঠন নিয়ে বিএনপি প্রার্থী বাবুল খানের সাথে ভুল বোঝাবুঝি ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব খন্দকার ইকবাল হোসেন সেলিমের প্রতি ক্ষুব্ধ ছিলেন রাজপথের ত্যাগী বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা। স্থানীয় যুবদল নেতা সজিব মাতুব্বরসহ তার পক্ষের দলীয় নেতাকর্মীরা ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে দীর্ঘদিনের বিভাজনজনিত ঘরোয়া কোন্দলেরও অবসান ঘটেছে।

এজন্য কোন্দল মুক্ত বিএনপি হিসেবে ঘোষণা করেন ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব খন্দকার ইকবাল হোসেন সেলিম।

কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও ফরিদপুর ৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বাবুল খান বলেন, ভাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের ঘাঁটি, এটা আমি বিশ্বাস করিনি। ভাঙ্গা উপজেলা তথা ফরিদপুর ৪ আসনকে বিএনপির ঘাঁটিতে পরিণত করে তারুণ্যের শক্তি তারেক রহমানকে উপহার দিতে অদ্ধপরিকর হয়ে জাতীয়তাবাদী শক্তির পতাকা তলে থাকার কোন বিকল্প নেই। দলীয় শৃঙ্খল ভেঙে যদি কেউ অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়ে ওঠেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

তিনি আরও বলেন, বিএনপির রাজনীতিতে কোন বিভাজন নেই। অতএব ভোটের মাঠের রাজনীতিতে জনগণ ধানের শীষে ভোট দিয়ে নিজেদের কাঙ্ক্ষিত বিজয়ে পৌঁছে যাবে বলে মতামত প্রকাশ করেন।