জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকে বন্ধ থাকা খুলনা জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ কার্যালয় দীর্ঘ সাত মাস পর খুলেছেন দলটির নেতাকর্মীরা। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কার্যালয়টিতে প্রবেশ করে তারা শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবিতে মাল্যদান এবং জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। তবে এই ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পরই বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা ওই কার্যালয়ে ঢুকে ছবি ও আসবাবপত্রে অগ্নিসংযোগ করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে সোনাডাঙা থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক টি এম আরিফের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী খুলনা সদর থানার শঙ্খ মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত কার্যালয়টির তালা খোলেন। এ সময় তারা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন এবং দলীয় কার্যক্রমের আবহ তৈরির চেষ্টা করেন। এ সময় রাশেদ সরদার ও জাহাঙ্গীর হোসেনসহ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।
অফিস খোলার খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সন্ধ্যার দিকে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা শঙ্খ মার্কেটে জড়ো হয়ে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে প্রবেশ করে এবং সেখানে থাকা ছবি ও বিভিন্ন নথিপত্রে আগুন ধরিয়ে দেয়।
এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আহমদ হামিম রাহাত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘নির্বাচন শেষ হওয়ার মাত্র দুদিনের মাথায় নিষিদ্ধ সংগঠনের এমন ধৃষ্টতা আমাদের উদ্বিগ্ন করেছে। আদালতের নির্দেশে তাদের সব ধরনের রাজনৈতিক তৎপরতা স্থগিত থাকলেও তারা আইন অমান্য করে উসকানি দিচ্ছে।’
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন জানান, বন্ধ অফিস খোলার বিষয়টি জানার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। কারা তালা খুলেছিল তা শনাক্ত করতে আমরা সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করছি। রাতে বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা সেখানে অগ্নিসংযোগ করেছে। পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।