মাগুরার সদর উপজেলার বগিয়া ইউনিয়নের বাগবাড়িয়া গ্রামের একটি ছোট পারিবারিক খামারে বেড়ে উঠেছে বিশাল আকৃতির ষাঁড় ‘লালু’। লাল রঙের শান্ত স্বভাবের এই গরুটিকে এক নজর দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন উৎসুক মানুষ। আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে প্রায় ৩০ মণ ওজনের এই ষাঁড়টি। খামারি এর দাম হাঁকছেন ১০ লাখ টাকা।
শনিবার (১৬ মে) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির পাশের টিনশেড গোয়ালঘরে রাখা হয়েছে তিনটি বড় ষাঁড়। তবে, সবার নজর কেড়েছে পাকিস্তানি শাহিওয়াল সংকর জাতের ‘লালু’। প্রায় ১৪ দশমিক ৫ ফুট লম্বা ও ৬ ফুট উচ্চতার বিশাল আকৃতির গরুটি দেখতে প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছেন।
খামারের মালিক ছালেক বিশ্বাস বলেন, ছোট পরিসরে পারিবারিকভাবে গরু পালন শুরু করলেও ভবিষ্যতে বড় পরিসরে খামার গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। আমার ছেলে আশিক বিশ্বাসের আগ্রহ ও পরিশ্রমেই মূলত গরুগুলো লালন-পালন করা হচ্ছে।
খামারি আশিক বিশ্বাস বলেন, শখ করেই গরুটির নাম রেখেছি ‘লালু’। প্রায় তিন বছর ধরে সন্তানের মতো করে গরুটিকে লালন-পালন করছি। লেখাপড়ার পাশাপাশি ছোট থেকেই একটি খামার গড়ে তোলার স্বপ্ন ছিল। ধীরে ধীরে সঞ্চয় করে বর্তমানে তিনটি গরু পালন করছি।
তিনি আরও বলেন, লালুর ওজন প্রায় ৩০ মণ হবে বলে ধারণা করছি। বাকি দুটি গরুর সম্মিলিত ওজনও প্রায় ৫৬ মণ। গরুগুলোকে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবার খাওয়ানো হয়। ঘাস, খড়, ভুসি ও দেশীয় খাবারই প্রধান খাদ্য। কোনো ধরনের ক্ষতিকর ফিড বা মোটাতাজাকরণ ওষুধ ব্যবহার করা হয়নি।
আশিকের বড় ভাই রিয়াজ বিশ্বাস বলেন, লালুকে ঘিরেই মানুষের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। প্রতিদিন অনেক মানুষ গরুটি দেখতে আসছেন। বাজার পরিস্থিতি ভালো থাকলে ন্যায্য দাম পাব বলে আশা করছি।
সুমন মিয়া মিয়া নামে এক প্রতিবেশী বলেন, ছালেক বিশ্বাসের পরিবার গরুগুলো খুব যত্ন করে। তাদের খামারের বড় গরু লালু দেখতে খুবই আকর্ষণীয়। গরুটি দেখতে ও ক্রয়ের উদ্দেশ্যে দূর-দূরান্ত থেকে অনেকেই তাদের বাড়িতে ভিড় করছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, এত বড় আকৃতির গরু এলাকায় সচরাচর দেখা যায় না। তাই কোরবানির ঈদ সামনে রেখে ‘লালু’ এখন এলাকাবাসীর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. এস এম নাসিম আহমেদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, এবারের কুরবানীর ঈদে মাগুরা জেলায় আমার দেখা মতে লালু সবচাইতে বড় গরু। গরুটি দেখতে অনেক বড়। খামারের মালিক নিয়মিত আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন। আমরা তাকে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করেছি।
জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা ৬২ হাজার ৫০৮টি। এর বিপরীতে খামারি ও গৃহস্থরা ৭৬ হাজার ৯৬৪টি পশু প্রস্তুত করেছেন। ফলে জেলার চাহিদা মিটিয়ে ১৪ হাজার ৪৬৬টি বেশি উদ্বৃত্ত পশু দেশের অন্যান্য জেলায় সরবরাহ করা সম্ভব হবে।