চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় ২০২৬-২৭ মৌসুমে তুলা ফসলের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।
সোমবার (২০ জুলাই) জীবননগর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সকাল সাড়ে ১০টায় তুলা উন্নয়ন বোর্ড, চুয়াডাঙ্গা জোনের আয়োজনে এ উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেনের সভাপতিত্বে ও জীবননগর কটন ইউনিট কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উপকরণ বিতরণ কাজের উদ্বোধন করেন জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা এ্যানি।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই স্বাগত বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গা জেলার প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) এস.এম.ইজাজুল ইসলাম জানান, জীবননগরে তুলা চাষী ২ হাজার ৬০০ জন। এর মধ্যে ১ হাজার ১০০ জন কৃষককে ৮৮ লাখ টাকার প্রনোদনার উপকরণ বিতরণ করা হচ্ছে। একজন তুলা চাষী ৮ হাজার টাকা মূল্যের ৬০০ গ্রাম হাইব্রীড তুলা বীজ, ২৫ কেজি ইউরিয়া সার, ৫০ কেজি টিএসপি, ৫০ কেজি এমওপি ও ২ কেজি বোরণ সার। কীটনাশকের মধ্যে রয়েছে ২০০ মি.লি. ডাইফেনথিউরন, ১০০ মি.লি. স্পিনোসেড, ১৫০ মি.লি. ছত্রাকনাশক, ৩০০ মি.লি. পিজিআর (ম্যাপাকুয়েট ফ্লোরাইড) উপকরণ সামগ্রী পাবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা এ্যানি বলেন, তুলা একটি সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসল। সরকারের প্রণোদনা কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের তুলা চাষে আরও উৎসাহিত করা হচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুসরণ করলে তুলা চাষে ভালো ফলন ও লাভজনক উৎপাদন সম্ভব।
উপকারভোগী কৃষকেরা বলেন, সরকারের দেয়া বিনামূল্যের বীজ ও অন্যান্য উপকরণ পেয়ে তারা খুবই উপকৃত হচ্ছেন। এতে তুলা চাষের খরচ কমবে এবং আরও বেশী জমিতে আবাদ করা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে তুলা উন্নয়ন বোর্ড ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা এবং উপকারভোগী কৃষক-কৃষাণীরা উপস্থিত ছিলেন।