ভারত থেকে ‘পুশইনের’ শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করা ভারতীয় নাগরিক সাহিদা ফকির এখন সাতক্ষীরার কলারোয়ায় একটি কৃষক পরিবারের আশ্রয়ে রয়েছেন। স্বামী ও সন্তানদের কাছে ফিরে যেতে চান তিনি। তার দাবি, বৈধ ভারতীয় পরিচয়পত্র থাকা সত্ত্বেও তাকে বাংলাদেশি সন্দেহে আটক করে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সাহিদা ফকির ভারতের উত্তর ২৪ পরগনার গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নের পূর্ব ভাদিয়ালি গ্রামের কৃষক আবুল বাশারের বাড়িতে অবস্থান করছেন।
সাহিদার স্বামী জুম্মান ফকির পেশায় একজন মোটরগাড়ির মেকানিক। শ্বশুরের নাম ইনছান ফকির। তাদের দুই ছেলে। বড় ছেলে ভারতের গোবিন্দপুরে থাকেন, আর ছোট ছেলে পরিবার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মুম্বাইয়ে বসবাস করছেন।
সাহিদা ফকির জানান, গত ১৮ জুলাই সন্ধ্যায় মুম্বাইয়ের সানপাড়া এলাকায় সবজি কিনে ভাড়া বাসায় ফেরার পথে ভারতের সিআইবি সদস্যরা তাকে বাংলাদেশি সন্দেহে আটক করেন। এ সময় তিনি নিজের ভারতীয় পরিচয়পত্র (আই কার্ড) ও প্যান কার্ড দেখালেও তা গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, দুই দিন আটকে রাখার পর তাকে বিমানে করে আসাম সীমান্ত এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কয়েকদিন রাখার পর আরও দুইজন পুরুষ ও চারজন নারীর সঙ্গে ফেনী সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
সাহিদা বলেন, ‘আমি আমার স্বামী-সন্তানের কাছে ফিরে যেতে চাই। আমি ভারতের নাগরিক। আমার কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও আমার কথা শোনা হয়নি।’
বাংলাদেশে আসার পর বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরির একপর্যায়ে বেনাপোলে কৃষক আবুল বাশারের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। মানবিক বিবেচনায় আবুল বাশার তাকে নিজের বাড়ি কলারোয়ার পূর্ব ভাদিয়ালিতে নিয়ে আসেন।
আশ্রয়দাতা আবুল বাশার জানান, চিকিৎসার কাজে তিনি বেনাপোল গিয়েছিলেন। ফেরার পথে সাহিদার সঙ্গে তার দেখা হয়। ওই নারী তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার কথা জানালে মানবিক কারণে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন।
আবুল বাশারের স্ত্রী আরিফা খাতুন বলেন, ‘ওই নারী তার সমস্যার কথা জানানোর পর আমরা তাকে আমাদের বাড়িতে রেখেছি। আমরা চাই তিনি নিরাপদে তার স্বামী-সন্তানের কাছে ফিরে যেতে পারেন।’
স্থানীয়রা জানান, বিষয়টি জানার পর বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ওই বাড়িতে এসে সাহিদার বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং নজরদারি করছেন।
স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সাহিদা ফকিরের নিজ দেশে ফেরার ব্যবস্থা করা হোক।
এদিকে মুম্বাই সম্পর্কে অভিজ্ঞ কয়েকজন ব্যক্তি জানান, সাহিদা যেখান থেকে আটক হয়েছেন বলে জানিয়েছেন, নবী মুম্বাইয়ের সানপাড়া এলাকার ওই অঞ্চলটি বাঙালি অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় সেখানে পরিচয় যাচাইয়ের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।