বাবার মরদেহ নিয়ে সংঘর্ষের পর মাকে বাড়িছাড়া করার অভিযোগ

যশোরের কেশবপুরে বাবার মরদেহ বাড়িতে রেখেই জমি ও পারিবারিক কবরস্থান নিয়ে সংঘর্ষে জড়ানো দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে এবার তাদের সত্তরোর্ধ্ব মাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভরণপোষণ ও প্রতিকারের দাবিতে বুধবার (২৬ আগস্ট) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দুই ছেলের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী নুরজাহান বেগম। বর্তমানে মেয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন তিনি।

ইউএনওর কাছে দেওয়া অভিযোগে নুরজাহান বেগম বলেন, দুই ছেলে তার কোনো ভরণপোষণ দেন না এবং নিয়মিত দুর্ব্যবহার করেন। এমনকি স্বামীর দাফনকাজেও ছেলেরা বাধা সৃষ্টি করেছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। বৃদ্ধ বয়সে সন্তানদের এমন আচরণে নিজেকে পুরোপুরি আশ্রয়হীন ও অসহায় মনে করছেন বলে জানান নুরজাহান।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২৪ আগস্ট) বাবা খালেক মানের মৃত্যুর পর জমি ও পারিবারিক কবরস্থানের ভাগাভাগি নিয়ে সংঘর্ষে জড়ান দুই ছেলে মাহবুবুর রহমান ও আসাবুল। সংঘর্ষে দুই পক্ষের চারজন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। এ কারণে বাড়িতে রাখা বাবার মরদেহের দাফনও বিলম্বিত হয়। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে দাফন সম্পন্ন করা হয়।

এর দুদিন পর হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফেরেন সংঘর্ষে আহত ছোট ছেলে আসাবুল ও তার স্ত্রী হালিমা খাতুন। এরপরই তারা বৃদ্ধা নুরজাহানকে বাড়ি থেকে বের করে দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। নিরুপায় হয়ে মেয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেন ওই বৃদ্ধা।

নুরজাহানের মেয়ে তাসলিমা বলেন, ভাইয়েরা মাকে বাড়িছাড়া করলেও তিনি মাকে ফেলে দিতে পারবেন না। ভাইয়েরা দায়িত্ব না নিলে তিনিই মায়ের দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করবেন।

অভিযোগের বিষয়ে আসাবুলের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তার মুঠোফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। তবে আসাবুলের ছেলে আল আমিন দাবি করেন, তার দাদি ক্ষোভের বশে বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন। তাকে বুঝিয়ে বাড়িতে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বড় ছেলে মাহবুবুর রহমান বলেন, মা ছোট ভাইয়ের সঙ্গে এবং বাবা তার সঙ্গে থাকতেন। মায়ের দায়িত্ব দুই ভাইয়েরই যৌথভাবে নেওয়া উচিত। ছোট ভাই দায়িত্ব এড়িয়ে গেলেও তিনি নিজে মায়ের আজীবন ভরণপোষণের দায়িত্ব নেবেন বলে জানান।

এদিকে অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, লিখিত অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে গ্রহণ করা হয়েছে। অসহায় এই বৃদ্ধাকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনি সহায়তা দেওয়া হবে।