মাদকবিরোধী প্রতিবাদে হামলার অভিযোগে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন

সাতক্ষীরায় মাদকবিরোধী প্রতিবাদ করতে গিয়ে হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে জিয়াউর রহমান জিয়াসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সামনে ৯ নম্বর ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এমএ হাসান। মানববন্ধনে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে ব্রহ্মরাজপুর বাজারে মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় স্থানীয় বাসিন্দা জাকির হোসেন ও আব্দুল কাদেরের ওপর জিয়াউর রহমান জিয়া, ফাহিম, হাফিজুল ও ফারুক হামলা চালান। এ সময় ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা। হামলায় আহত দুজনকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে মানববন্ধনে জানানো হয়।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন দহাকুলা বায়তুর মামুর জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা ফজলে রাব্বী, মো. আজমল হোসেন, ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম, ল কলেজ স্টুডেন্ট ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল হাসান, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ইনছাপ আলী ও সাবেক ইউপি সদস্য মো. হাতেম আলীসহ অনেকে।

বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, দহাকুলা গ্রামের আজিমুদ্দিনের ছেলে জিয়াউর রহমান জিয়া, তাঁর ভাই হাফিজুল এবং জিয়ার দুই ছেলে ফাহিম ও নাঈম দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক কারবার ও বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তাঁদের বিরুদ্ধে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায় এবং চাঁদা না দিলে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ করেন বক্তারা।

এ ছাড়া জিয়ার বিরুদ্ধে নারী অপহরণ, আটকে রেখে নির্যাতন ও নারীদের হয়রানির মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে বলেও মানববন্ধনে দাবি করা হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বক্তারা আরও দাবি করেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর জিয়া নিজেকে বিএনপির সমর্থক হিসেবে পরিচয় দিয়ে ‘জিয়া ফাউন্ডেশন’-এর নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তিনি ওই ফাউন্ডেশন থেকে ভাতা পান বলেও বিভিন্নজনের কাছে দাবি করেছেন বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।

মানববন্ধন থেকে জিয়াউর রহমান জিয়া, ফাহিম, হাফিজুল ও ফারুককে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন বক্তারা।

তারা বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পরবর্তী সময়ে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।

মানববন্ধনে ব্রহ্মরাজপুর ও ধুলিহর ইউনিয়নের বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মো. রাশিদুল ইসলাম।