কারিগরি ত্রুটির কারণে বাগেরহাটের রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা থেকে ইউনিটটি পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। তবে কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট স্বাভাবিকভাবে উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছে।
রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের মানবসম্পদ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক আনোয়ারুল আজিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, কারিগরি ত্রুটির কারণে দ্বিতীয় ইউনিট বন্ধ করা হয়েছে। ইউনিটটি পুনরায় চালু করতে অন্তত চার দিন সময় লাগতে পারে। এ জন্য প্রয়োজনীয় কাজ চলছে। তবে প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে নিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে।
তবে দ্বিতীয় ইউনিটে ঠিক কী ধরনের ত্রুটি দেখা দিয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি এই কর্মকর্তা।
রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ উদ্যোগে এ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয় ২০১০ সালে। ২০১২ সালের ২৯ জানুয়ারি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) ও ভারতের এনটিপিসি লিমিটেডের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। পরে বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি (প্রা.) লিমিটেডের (বিআইএফপিসিএল) অধীনে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্রজেক্ট নির্মাণ শুরু হয়।
রামপাল উপজেলার রাজনগর ও গৌরম্ভা ইউনিয়নের সাপমারী-কৈগর্দ্দাশকাঠি মৌজায় ১ হাজার ৩৪ একর জমি অধিগ্রহণের পর প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়।
দীর্ঘ নির্মাণপ্রক্রিয়া শেষে ২০২২ সালের ২৩ ডিসেম্বর কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট উৎপাদনে যায়। পরের বছর ২৪ অক্টোবর পরীক্ষামূলকভাবে দ্বিতীয় ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়। এরপর ২০২৪ সালের ১২ মার্চ দ্বিতীয় ইউনিট আনুষ্ঠানিকভাবে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যায়।
তবে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর থেকে কারিগরি ত্রুটি ও বিভিন্ন কারণে দ্বিতীয় ইউনিটসহ কেন্দ্রটির উৎপাদন একাধিকবার বন্ধ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ পর্যন্ত ৩০ বারের বেশি উৎপাদন বন্ধ হওয়ার তথ্য রয়েছে।