কুষ্টিয়া সদরের সাবেক এমপি ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফের আলিশান বাড়ি এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। শহরের পিটিআই সড়কের এই বাড়িতেই এক সময় ছিল আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পদচারণা। কিন্তু এখন যেন দৃশ্য ভিন্ন, বাড়ির জানালা-দরজা ভাঙা, ধ্বংসস্তুপে পরিণত, যেন এক জরাজীর্ণ ভূতুড়ে বাড়ি!
মাহবুব উল আলম হানিফ কুষ্টিয়া-৩ সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হওয়ার আগে গোটা জেলা নিয়ন্ত্রণকারী একজন শক্তিশালী ব্যক্তির বাসস্থান ছিল। ১৬ বছর ধরে তিনি কুষ্টিয়া জেলায় একমাত্র প্রতাপশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। কিন্তু এখন তার বাড়িটি বিপর্যস্ত। ৪ ও ৫ আগস্ট দফায় দফায় হামলা, ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ফলে বাড়িটির কাঠামো ছাড়া কিছুই নেই। বাড়ির ইটও খুঁলে নিয়ে গেছে বিক্ষুব্ধরা।
মাহবুব উল আলম হানিফের রাজনৈতিক শিষ্য হিসেবে পরিচিত তার চাচাতো ভাই আতাউর রহমান আতার আলিশান বাড়িরও একই অবস্থা। যা শহরের হরিশংকরপুরে অবস্থিত।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতারা বলছেন, আগস্টের আগেও মাহবুব উল আলম হানিফ ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতার ছত্রছায়ায় ঠিকাদারি কাজ নিয়ন্ত্রণ, চাকরিতে নিয়োগ ও বদলি, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সবকিছু নিয়ন্ত্রণ হতো এই বাড়ি থেকেই। আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠন এমনকি পেশাজীবী সংগঠনগুলো চালাতে নির্দেশনা আসত এই বাড়ি থেকেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন বাড়িটি দেখতে আসলেও, আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মী বা দীর্ঘদিন যারা এই বাড়ি থেকে নানা সুবিধা নিয়েছেন তাদের কাউকে দেখা যাচ্ছে না। বাড়ির ইট খুঁলে নিয়ে গেলেও কেউই এগিয়ে আসছেন না।
পথচারী মেহেদী হাসান বলেন, হানিফ সাহেব ও আতা সাহেব বাড়িতে থাকলে বিভিন্ন লোকজন আসতো এখানে। লোকসমাগম ও ভিড়ের কারণে সড়কটি দিয়ে চলাচলে ভোগান্তিতে পড়তে হতো সাধারণ মানুষকে। বাড়িটি সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত সরগরম থাকতো। বাড়ির সামনে দামি গাড়ির সারিও দেখা যেতো। এখন বাড়ির মালিকরা নেই, কোনো লোকও আর আসে না।
সচেতন নাগরিক কমিটি কুষ্টিয়ার সভাপতি রফিকুল আলম টুকু বলেন, মানুষের শ্রদ্ধা-ভালবাসা থেকেই জনপ্রতিনিধি হয়। সেই জনপ্রতিনিধি যদি তার কার্যক্রমে জনগণের বিপক্ষে যায়। জনগণের সেবক না হয়ে জনগণের প্রভু হয়ে যায়। সেই জনপ্রতিনিধির বিপক্ষে যেতে মানুষ যে সময় নেয় না তার দৃষ্টান্ত প্রমাণ সাবেক সংসদ সদস্য মাহবুব উল আলম হানিফ ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতার বাড়ি। তাই আগামীতে যারা জনপ্রতিনিধি হবেন বা হতে যাচ্ছেন তাদের এটি দেখে শিক্ষা নেওয়া উচিত।