যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার মেধাবী বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ অবশেষে তার নিজ জেলা জামালপুরে এসে পৌঁছেছে।
সোমবার (৪ মে) দুপুর ৩টা ১০ মিনিটে একটি অ্যাম্বুলেন্সযোগে মরদেহটি জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের লালডোবা গ্রামে তাঁর পৈত্রিক বাড়িতে পৌঁছায়।
মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি গ্রামে প্রবেশ করতেই এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। লিমনের কফিন দেখে স্বজনদের গগনবিদারী চিৎকারে চারপাশের আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। মেধাবী এই শিক্ষার্থীকে শেষবারের মতো দেখতে লালডোবা গ্রামসহ আশপাশের কয়েক গ্রামের শত শত মানুষ ভিড় করেন। অনেকেই কফিন স্পর্শ করে কান্নায় ভেঙে পড়েন। নির্বাক দাঁড়িয়ে থাকা প্রতিবেশীদের চোখেও ছিল অশ্রু।
লিমনের চাচা জিয়াউল হক বলেন, ‘ছেলেটা অনেক বড় স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে গিয়েছিল। ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞানে পিএইচডি করতে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ভর্তি হয়েছিল ও। কিন্তু ওকে এভাবে কফিনে করে ফিরিয়ে আনতে হবে, তা আমাদের কাছে অকল্পনীয় কষ্টের।’
২০২৪ সালের জুলাই মাসে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে যান জামিল আহমেদ লিমন। গত ১৬ এপ্রিল তিনি রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন। নিখোঁজের আট দিন পর ২৪ এপ্রিল ফ্লোরিডার ট্যাম্পার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকা থেকে তাঁর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে সে দেশের পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে লিমনের রুমমেট, মার্কিন নাগরিক হিশাম আবুগারবিয়েহকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
নিহত লিমনের বাবা জহুরুল হক কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, ‘আমার ছেলেটা খুব শান্ত ছিল। রুমমেট তাকে কেন খুন করল জানি না। আমি কেবল আমার সন্তানের হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।’
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আজ সোমবার বাদ মাগরিব স্থানীয় লালডোবা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে লিমনের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। ইতোমধ্যে দাফনের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে গ্রামবাসী।