গ্রাম থেকে মক্কা, পায়ে হেঁটে হজের পথে নাটোরের দুলাল

আল্লাহর ঘরে পৌঁছানোর আকাঙ্ক্ষা অনেকেরই থাকে, কিন্তু সেই আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে রূপ দিতে পায়ে হেঁটে হাজার হাজার কিলোমিটারের পথ পাড়ি দেওয়ার সাহস দেখিয়েছেন নাটোরের সিংড়ার দুলাল হোসেন (৪৫)। জীবনের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পবিত্র কাবা শরিফে পৌঁছে হজ পালন। সেই স্বপ্ন পূরণের আশায় এবার পায়ে হেঁটেই সৌদি আরবের মক্কার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছেন তিনি।

নাটোরের সিংড়া উপজেলার ডাহিয়া ইউনিয়নের তাড়াই বড়ইচোরা গ্রামের মৃত মকসেদ আলী ও পিয়ারা বেগমের ছেলে দুলাল হোসেন। ধর্মীয় অনুরাগ ও সরল জীবনযাপনে অভ্যস্ত এই মানুষটির দীর্ঘদিনের ইচ্ছা ছিল ভিন্নভাবে পবিত্র হজ পালনের। সেই ইচ্ছা থেকেই দীর্ঘ প্রস্তুতি শেষে গ্রামের মাটির পথ পেরিয়ে শুরু করেছেন অজানা পথের এই দীর্ঘ যাত্রা।

দুলালের যাত্রার খবর ছড়িয়ে পড়তেই তাড়াই বড়ইচোরা গ্রামে তৈরি হয় আবেগঘন পরিবেশ। তাকে বিদায় জানাতে বাড়ি ও গ্রামের আশপাশে জড়ো হন স্বজন, প্রতিবেশী ও নানা বয়সী মানুষ। কেউ তার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেছেন, কেউ দিয়েছেন সাহস, আবার কেউ হাত তুলে করেছেন দোয়া। প্রিয়জনদের কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার মুহূর্তটি ছিল অনেকের কাছেই আবেগের।

এলাকাবাসী জানান, দুলাল হোসেন অত্যন্ত শান্ত, সরল ও ধর্মপ্রাণ মানুষ। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি পায়ে হেঁটে হজে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করে আসছিলেন। সময়ের সঙ্গে সেই ইচ্ছা আরও দৃঢ় হয়। শেষ পর্যন্ত নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সব প্রস্তুতি নিয়ে তিনি যাত্রা শুরু করেন।

দুলাল হোসেন বলেন, ‘আল্লাহর ঘরে যাওয়ার আকুলতা থেকেই আমার এই সিদ্ধান্ত। পায়ে হেঁটে হজ করতে যাওয়া নিঃসন্দেহে কষ্টসাধ্য। তারপরও আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রেখে আমি রওনা হয়েছি। আমার ইচ্ছা, নিরাপদে মক্কায় পৌঁছে পবিত্র হজ পালন করা।’

তিনি আরও বলেন, এই দীর্ঘ পথে শারীরিক কষ্ট, নানা প্রতিকূলতা ও অনিশ্চয়তা আসতে পারে। তবে আল্লাহর ওপর বিশ্বাস ও মানুষের দোয়া সঙ্গে থাকলে তিনি পথ পাড়ি দিতে পারবেন বলে আশাবাদী।

দুলাল জানান, বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন সীমান্ত অতিক্রম করে কয়েকটি দেশ হয়ে সৌদি আরবে পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে তার। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে সীমান্ত পারাপার, নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক বিষয়ে সহযোগিতা প্রয়োজন হতে পারে। এ ক্ষেত্রে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।

দুলালের এই ব্যতিক্রমী যাত্রা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও তৈরি হয়েছে কৌতূহল। 

অনেকে বলছেন, আধুনিক সময়ে যেখানে মানুষ দ্রুততম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে চায়, সেখানে আল্লাহর ঘরের টানে পায়ে হেঁটে এমন দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রমী।

ডাহিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ব্যবসায়ি আ. হান্নান মিয়া বলেন, দুলাল যখন হজের উদ্দেশ্যে রওনা হয় তখন তার চোখেমুখে ছিল আত্মবিশ্বাস। আমরা সকলে প্রার্থনা করি দীর্ঘ এই পথ যেন নিরাপদ হয়, সুস্থ শরীরে তিনি যেন মক্কায় পৌঁছাতে পারেন এবং তার বহুদিনের স্বপ্ন যেন পূর্ণ হয়।

দুলালের পায়ে হেঁটে মক্কা যাওয়ার বিষয়ে ডাহিয়া ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মো. ছলেমান আলী বলেন, দুলাল আমার আত্মীয় হয়। ওর এই দুঃসাহসিক যাত্রা সফল হোক এই কামনা করি। দেশবাসীকে তার জন্য দোয়া করার অনুরোধ করছি।