সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর ভাঙন রোধে মানববন্ধন

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার সোনাতনী ইউনিয়নের কুরসি ও ধীতপুর গ্রামে যমুনা নদীর তীব্র ভাঙনে এরই মধ্যে দুই শতাধিক বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙন আতঙ্কে রয়েছেন আরও বহু পরিবারের মানুষ। দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধে বালুর বস্তা ফেলে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে কুরসি বাজার এলাকায় নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেলে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাবাসি এ মানববন্ধনের আয়োজন করেন। 

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, জিন্নাহ মন্ডল, আব্দুল মালেক, আব্দুস সামাদ, ফিটার সরদার, লষ্কর আলী, আব্দুল মান্নান, মহির উদ্দিন ও নীল চান প্রামাণিকসহ স্থানীয়রা।

বক্তারা বলেন, এ বছর বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকে সোনাতনী ইউনিয়নের শ্রীপুর, ধীতপুর, কুরসি, বারপাখিয়া, গালা ইউনিয়নের মোহনপুর ও হাতকোড়া গ্রামে যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়ে এখনও তা অব্যাহত আছে। এই ভয়াবহ ভাঙনে গত তিন মাসে শত শত বাড়িঘরের পাশাপাশি কৃষকদের শত শত বিঘা আবাদি জমি চোখের সামনে বিলীন হয়ে গেছে। তারা সরকারের কাছে অবিলম্বে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে ভাঙন এলাকায় বালুর বস্তা ডাম্পিং করে ভাঙন রোধের জোর দাবি জানান।

বিক্ষোভকারীরা জানান, গত দুই সপ্তাহে শাহজাদপুর উপজেলার সোনাতনী ইউনিয়নের কুরসি ও ধীতপুর গ্রামের দুই শতাধিক বাড়িঘর যমুনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এসব গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় অনেক মানুষের যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। তারা ভাঙনকবলিত এলাকায় পলিথিনের ছাউনিতে অথবা মাছ ধরার জাল দিয়ে ঘেরা জরাজীর্ণ ভাঙা ঘরে বসবাস করছেন ও মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

এব্যপারে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা সারমিন জানান, তিনি ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। সেখানকার পরিস্থিতি সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এছাড়া ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বলা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণের চাল ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। অসহায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনেও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মখলেছুর রহমান জানান, শাহজাদপুর উপজেলার সোনাতনী ইউনিয়নটি যমুনা নদীর চরাঞ্চল এলাকা হওয়ায় সেখানে তাদের কোনো প্রকল্প নেই। ফলে সেখানে কোনো কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে নতুন প্রকল্প পাওয়া গেলে সেখানে অবশ্যই কাজ করা হবে।