পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের জোত কাকুরিয়া কলাবাগান এলাকায় পদ্মা নদী থেকে চায়না কাটার মেশিন দিয়ে অবাধে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। নদীর তীর ঘেঁষে বালু উত্তোলনের কারণে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে কৃষকদের শত শত বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। বালু উত্তোলনে বাধা দিলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ‘ম্যানেজ’ করেই প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট গত এক সপ্তাহ ধরে ভোররাত ৩টা থেকে প্রতিদিন দুপুর ১২টা পর্যন্ত বালু উত্তোলন করছে। এমনকি স্পিডবোটে নৌ পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নিয়মিত পাহারার মধ্যেও তাদের অপেক্ষা করে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভাঁড়ারা ইউনিয়নের জোত কাকুরিয়া কলাবাগান এলাকায় পদ্মা নদীতে প্রকাশ্যে ছয়টি চায়নিজ কাটার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। উত্তোলিত বালু শতাধিক ট্রলারে করে পাবনার ভাঁড়ারা, দোগাছী, চরতারাপুর, পাকশী, সুজানগর এবং কুষ্টিয়ার পাংশা, কুমারখালী ও রাজবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রতিদিন এখানে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকার বালুর বাণিজ্য হচ্ছে। বিভিন্ন মহলে প্রতিদিন ভাগবাটোয়ারা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন কৃষক বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাহারায় নৌকায় অস্ত্র নিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
তাদের দাবি, এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেও কার্যকর কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। কিছুদিন আগেও সেখানে বালু উত্তোলনে বাধা দিলে মঞ্জু শেখ নামের এক বিএনপি নেতাকে গুলি করে হত্যা করা হয় বলে তারা দাবি করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাবেক এমপির সহযোগীসহ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির নিয়ন্ত্রিত একটি সিন্ডিকেট এ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। নৌ পুলিশসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ‘ম্যানেজ’ করেই বালু উত্তোলন চলছে বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, প্রায় এক থেকে দেড় মাস আগে ওই এলাকায় বালু উত্তোলনে বাধা দিতে গিয়ে মঞ্জু শেখ নামের এক বিএনপি নেতা গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। ওই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের বালু উত্তোলন শুরু হওয়ায় এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে আব্দুল আলিমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পাবনার পুলিশ সুপার (এসপি) আশ্রাফ আলী বলেন, ‘অনেকেই টেলিফোনে অভিযোগ জানিয়েছেন। বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
পাবনার জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি আপনাদের কাছ থেকে জানলাম। খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’