জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে বিয়ের দাবিতে প্রেমিক সিয়ামের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন এক সন্তানের জননী সাবিনা ইয়াসমিন। বৃহস্পতিবার রাত থেকে উপজেলার মামুদপুর ইউনিয়নের মিনিগাড়ি পূর্বপাড়া গ্রামে সিয়ামের বাড়িতে অবস্থান করছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিনের সম্পর্কের একপর্যায়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সিয়াম। সম্প্রতি অন্যত্র তাঁর বিয়ের উদ্যোগের খবর পেয়ে তিনি সেখানে অবস্থান নেন।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, সিয়ামের বাড়ির সামনে অবস্থান করছেন সাবিনা ইয়াসমিন। তাকে দেখতে স্থানীয় বাসিন্দারাও সেখানে জড়ো হন। তবে স্থানীয়দের ভাষ্য, সিয়াম ও তার পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে তালা দিয়ে অন্যত্র চলে গেছেন।
সাবিনা ইয়াসমিন জানান, তিনি মামুদপুর ইউনিয়নের মিনিগাড়ি গ্রামের শফিকুল ইসলামের স্ত্রী। প্রায় সাড়ে ছয় বছর আগে শফিকুলের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাদের চার বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। তাঁর স্বামী একটি এনজিওতে চাকরি করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিয়াম হিন্দা এলাকার আব্দুল লতিফের ছেলে। তিনি মিনিগাড়ি গ্রামে তার নানা প্রয়াত মোজা ব্যাপারীর বাড়িতে থাকতেন। প্রতিবেশী হিসেবে পরিচয়ের সূত্র ধরে প্রায় দুই বছর আগে সাবিনা ও সিয়ামের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে দাবি করা হচ্ছে।
সাবিনার অভিযোগ, সম্পর্কের শুরু থেকেই সিয়াম তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে আসছিলেন। একপর্যায়ে তার বাড়িতেও সিয়ামের যাতায়াত ছিল। একদিন এক প্রতিবেশী তাঁকে ঘরের মধ্যে দেখে ফেলেন। তখনও সিয়াম তাঁকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে চলে যান বলে জানান সাবিনা।
তিনি বলেন, এরপরও সিয়াম নিয়মিত বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। কিন্তু সম্প্রতি তিনি জানতে পারেন, সিয়াম অন্য এক তরুণীকে বিয়ে করতে ধাওয়াপাড়া কাপাসটিকরি গ্রামের এক প্রবাসীর মেয়ের বাড়িতে গেছেন। এ খবর পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে তিনি সিয়ামের বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নেন।
সাবিনা বলেন, ‘সিয়ামকে না পাওয়া পর্যন্ত আমি এখান থেকে যাব না। সে এসে আমাকে বিয়ে করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত আমি এই বাড়িতেই থাকব।’
স্থানীয়রা জানান, এ ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন সাবিনা। তিনি আবেগের বশে নিজের ক্ষতি করার কথাও বলেছেন বলে তাঁদের দাবি।
তবে সাবিনার অভিযোগের বিষয়ে সিয়ামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান স্থানীয় বিএনপি নেতা সাকিলুর রহমান তালুকদার। তিনি বলেন, ঘটনাটি নিয়ে থানা-পুলিশ ও স্থানীয় ইউপি সদস্যের সঙ্গে কথা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছে, তবে এখনো কোনো সমাধান হয়নি।
ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুক্তারুল আলম বলেন, ‘ঘটনার কথা শুনেছি এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। স্থানীয়ভাবে সমাধান না হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’