সিংড়ায় সার সংকটে বিপাকে চাষিরা

নাটোরের সিংড়ায় চাহিদার তুলনায় সার সরবরাহ কম থাকায় বিপাকে পড়েছেন আমন চাষিরা। ডিলারদের কাছ থেকে প্রয়োজনমতো সার না পাওয়ার অভিযোগের পাশাপাশি খোলা বাজারেও পর্যাপ্ত সার মিলছে না। এতে সময়মতো জমিতে সার প্রয়োগ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকেরা। তবে কৃষি বিভাগ বলছে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে চলনবিল অধ্যুষিত সিংড়া উপজেলায় ৩ হাজার ৬৪০ হেক্টর জমিতে আউশ ধানের আবাদ হয়েছে। এরই মধ্যে আউশের রোপণ শেষ হয়েছে এবং কোথাও কোথাও ধান কাটাও শুরু হয়েছে।

এদিকে চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২৩ হাজার ৫০৫ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে। বিভিন্ন বাজারে আমনের চারা বিক্রি হচ্ছে এবং আবাদি জমির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। ফলে আমন চাষে সারের চাহিদাও বেড়েছে।

উপজেলায় সরকারি তালিকাভুক্ত সার ডিলার রয়েছেন ২৩ জন। ১২টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় নির্ধারিত স্থানে এসব ডিলারের মাধ্যমে সার বিতরণ করা হয়। কৃষকদের অভিযোগ, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় ডিলারদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় পরিমাণ সার পাওয়া যাচ্ছে না।

ডাহিয়া ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল আজিজ বলেন, সিংড়ায় সারের চাহিদা থাকলেও এখানকার সার বিয়াশ বাজার হয়ে তাড়াশ এলাকায় চলে যাচ্ছে বলে তিনি শুনেছেন। ফলে স্থানীয় কৃষকেরা প্রয়োজনমতো সার পাচ্ছেন না।

বিয়াশ গ্রামের কৃষক আজাদুল ও রুহুল আমিনসহ কয়েকজন জানান, তাদের কেউ ২০ বিঘা, আবার কেউ ৫০ বিঘা জমিতে আবাদ করেছেন। কিন্তু পর্যাপ্ত সার না পাওয়ায় তারা সমস্যায় পড়েছেন। সার সংগ্রহের জন্য ডিলারদের কাছে বারবার ঘুরতে হচ্ছে। এতে সময় চলে যাচ্ছে এবং জমির প্রয়োজনীয় পানি শুকিয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে।

কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি দামের তুলনায় খোলা বাজারে বিভিন্ন ধরনের সার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, সরকার নির্ধারিত দরে প্রতি বস্তা ইউরিয়া সার ১ হাজার ৫০ টাকা হলেও খোলা বাজারে তা ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে টিএসপি সার সরকারি দরে ১ হাজার ৩৫০ টাকা হলেও খোলা বাজারে ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা এবং পটাশ ১ হাজার ৫০ টাকার পরিবর্তে ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সিংড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, উপজেলায় কিছুটা সার সংকট রয়েছে। তবে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এ পরিস্থিতি থাকবে না। কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে ডিলারদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দ্রুত সংকট কেটে যাবে এবং কৃষকেরা প্রয়োজনীয় সার পাবেন বলে আশা করছেন তিনি।