ঈশ্বরদীতে ইউএনও’র বিরুদ্ধে মানববন্ধন

অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান এখন আলোচনায়। তার এই সাহসী প্রশাসনিক পদক্ষেপে সাধারণ মানুষ যেমন প্রশংসা করছেন, তেমনই ক্ষুব্ধ হয়েছে স্বার্থান্বেষী একটি মহল।

এরই প্রেক্ষিতেই মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) ঈশ্বরদীতে ইউএনও’র বিরুদ্ধে মানববন্ধন করা হয়।

সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে আয়োজিত ওই মানববন্ধনে কয়েকজন বক্তা ইউএনও’র বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তোলেন।

তবে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, অবৈধ বালু উত্তোলন ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলার বিরুদ্ধে ইউএনও’র অভিযানে ক্ষুব্ধ হয়ে এই মানববন্ধন আয়োজন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ইউএনও মো. মনিরুজ্জামান জানান, তিনি ঈশ্বরদীতে যোগদানের মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই ইসলামপুর ঘাট ও সাড়াঘাট এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করেন। এতে দুই দিনে মোট ১১টি মামলায় ১১ জনকে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এরপর থেকেই কিছু অসাধু ব্যক্তি প্রশাসনের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, আমাদের উপজেলায় সরকার ঘোষিত কোনো বালু মহাল নেই। তবুও কিছু চক্র অবৈধভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলন করে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করছিল। আমি দায়িত্ব পালন করেছি মাত্র, এতে যদি কেউ ক্ষুব্ধ হয়— তা দুঃখজনক।

মানববন্ধনের প্রতিক্রিয়ায় ইউএনও স্পষ্টভাবে জানান, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি কারও সঙ্গে দুর্ব্যবহার করিনি, কেউ করে থাকলে নির্দিষ্টভাবে জানাতে বলেছি। আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই উন্নয়ন কার্যক্রম, আইনশৃঙ্খলা ও জনসেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছি। প্রশাসনের কাজ হলো ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা, কোনো পক্ষকে তুষ্ট করা নয়।

এদিকে স্থানীয় অনেকেই ইউএনও’র উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পদ্মা নদীর চরাঞ্চলে অবৈধ বালু তোলা চলছিল, কিন্তু প্রশাসনের এমন কঠোর পদক্ষেপ আগে দেখা যায়নি।

একজন ব্যবসায়ী বলেন, ইউএনও সাহেব যা করেছেন, সেটা সাহসী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এখন নদী ও পরিবেশ বাঁচবে।

ইউএনও মো. মনিরুজ্জামান বলেন, সদাশয় সরকার আমাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জনগণকে সেবা দেওয়ার দায়িত্ব দিয়েছেন। আমি সততা ও নৈতিকতার সঙ্গে সেই দায়িত্ব পালন করছি। ঈশ্বরদীবাসীর সহযোগিতা পেলে উন্নয়ন ও সুশাসনের প্রচেষ্টা আরও গতিশীল হবে।