নির্বাচনের ৩ দিন পর সিলমারা ব্যালট উদ্ধার, ইউএনও’র গাড়ি ভাঙচুর

রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনের একটি ভোটকেন্দ্রের বন্ধ কক্ষ থেকে নির্বাচনের তিনদিন পর সিলমারা ব্যালট পেপার ও সিল উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ জনতা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে (ইউএনও) অবরুদ্ধ করে তার গাড়ি ভাঙচুর করেছে।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পীরগঞ্জের হাসারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, নির্বাচনের ছুটির পর সোমবার স্কুল খোলে। শিক্ষার্থীরা একটি কক্ষের আসবাবপত্র গোছাতে গিয়ে একটি ভাঙা আলমারির ভেতর কিছু ব্যালট পেপার ও সিল দেখতে পায়।

উদ্ধারকৃত সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে-‘ধানের শীষ’ প্রতীকে সিলমারা ২টি ব্যালট পেপার, ৪টি গণভোটের ব্যালট এবং ২টি সিল। কক্ষটি নতুন এবং দরজা-জানালা বন্ধ থাকায় বাইরে থেকে কেউ এগুলো ভেতরে ঢোকানো সম্ভব নয় বলে দাবি করেছেন প্রধান শিক্ষক।

ব্যালট উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে শত শত মানুষ স্কুলের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। তাদের অভিযোগ, নির্বাচনের দিন এই কেন্দ্রে ব্যাপক ভোট কারচুপি হয়েছে। খবর পেয়ে পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) পপি খাতুন ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যালটগুলো জব্দ করেন।

এ সময় উত্তেজিত জনতা কারচুপির অভিযোগে ইউএনওকে অবরুদ্ধ করে ফেলে এবং তার ব্যবহৃত সরকারি গাড়িটি ভাঙচুর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

ঘটনা প্রসঙ্গে ইউএনও পপি খাতুন বলেন, ‘খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যালট ও সিল উদ্ধার করি। তবে উদ্ধার করে ফেরার সময় উত্তেজিত জনতা আমাকে অবরুদ্ধ করে এবং আমার গাড়ি ভাঙচুর করে। বর্তমানে আমি নিরাপদ আছি। এ বিষয়ে পরবর্তী প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত জানানো হবে।’