চিকিৎসক সংকটে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল

কুড়িগ্রাম ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্স ও আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকটে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে। প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় প্রতিদিন রোগীদের ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে ২৫০ শয্যার হাসপাতালে রূপান্তরিত হলেও সেই অনুযায়ী জনবল বাড়ানো হয়নি। ৩৭১ জন চিকিৎসকের অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ২০ জন। একইভাবে ৩৪০ জন নার্সের বিপরীতে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র ১৬০ জন, যা কার্যত ১০০ শয্যার হাসপাতালের জনবলের সমান।

প্রতিদিন গড়ে ৫০০ জনের বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি থাকেন। কিন্তু সীমিত সংখ্যক চিকিৎসক দিয়ে ওয়ার্ডে দিনে একবারের বেশি রোগী দেখা সম্ভব হয় না। দুপুরের পর ভর্তি হওয়া রোগীদের অনেক সময় জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বা উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (সেকমো) প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শের জন্য অপেক্ষা করতে হয় পরদিন পর্যন্ত। সীমিত জনবল নিয়ে এই বিপুল সংখ্যক রোগী সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের।

মেডিসিন, সার্জারি, গাইনি ও কার্ডিওলজি বিভাগে কোনো সিনিয়র কনসালটেন্ট নেই। অ্যানেসথেসিয়া ও অর্থোপেডিক সার্জারিসহ সিনিয়র কনসালট্যান্টের আটটি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। জুনিয়র কনসালট্যান্টের ১২টি পদের মধ্যে ছয়টি খালি রয়েছে। এছাড়া মেডিকেল অফিসার, ইনডোর মেডিকেল অফিসার, রেজিস্ট্রার ও সহকারী রেজিস্ট্রারের একাধিক পদেও কেউ নেই। চিকিৎসক না থাকায় হাসপাতালের নাক, কান ও গলা (ইএনটি) বিভাগের সেবা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর সংকটও হাসপাতালের সেবাকে আরও দুর্বল করে তুলেছে। আয়া, ওয়ার্ডবয়, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও নিরাপত্তাকর্মীর বহু পদ শূন্য রয়েছে। আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে নতুন নিয়োগও আটকে আছে। ২৫০ শয্যার হাসপাতালের জন্য আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে অন্তত ১৫০ জন কর্মী প্রয়োজন হলেও কর্মরত আছেন মাত্র ৪৭ জন।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মো. নিসর্গ মেরাজ চৌধুরী জানান, ২৫০ শয্যার হাসপাতালের জন্য ৩৭১ জন চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ থাকলেও আছেন মাত্র ২০ জন। এই অল্পসংখ্যক চিকিৎসক দিয়েই প্রতিদিন গড়ে ৫০০ ভর্তি রোগী এবং বহির্বিভাগের বিপুলসংখ্যক রোগীকে সেবা দিতে হচ্ছে। সীমিত জনবল নিয়েই সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদাপত্র পাঠানো হলেও এখনো প্রয়োজনীয় জনবল পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচের কুড়িগ্রাম জেলা স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের সভাপতি ও সাবেক সিভিল সার্জন ডা. মো. আমিনুল ইসলাম জানান, ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতাল হওয়া সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, জনবল ও আধুনিক চিকিৎসা সুবিধার অভাবে জেলার মানুষ কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। দ্রুত শূন্য পদে চিকিৎসক ও জনবল নিয়োগ, অকেজো চিকিৎসা সরঞ্জাম সচল করা এবং আইসিইউ, এনআইসিইউসহ বিশেষায়িত সেবা চালুর জন্য সরকারের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।