রংপুর বিভাগে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, দুধকুমার ও তিস্তা নদীর ভাঙনে গত একমাসে অন্তত ৪০০টি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। একই সময়ে অন্তত ৫০ একর আবাদি জমিও নদীতে হারিয়ে গেছে। ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন পরিবারগুলো। নতুন করে ভাঙনের আশঙ্কায় অনেকেই ঘরবাড়ি খুলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন।
তিস্তার ভাঙন অব্যাহত থাকলেও কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা না নিয়ে কেবল পরিদর্শনেই সীমাবদ্ধ থাকার অভিযোগ উঠেছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বিরুদ্ধে। এর প্রতিবাদে নদী পাড়ের ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার পাশাপাশি রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয় ঘেরাও করেন।
গত এক মাসে গাইবান্ধায় ৩০টি, কুড়িগ্রামে ১৫০টি, লালমনিরহাটে ১৫টি, রংপুরের গঙ্গাচড়ায় ১৭টি এবং নীলফামারীতে প্রায় ২০০টি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। পাশাপাশি অন্তত ৫০ একর আবাদি জমিও হারিয়ে গেছে।
তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী ও রংপুর জেলার অন্তত ৪০টি স্থানে নতুন করে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। এসব এলাকার বহু পরিবার চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
কাচারীপাড়া এলাকার বাসিন্দা সুলতানা বেগম বলেন, আল্লাহ ছাড়া এখন আমাদের পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ নেই। নদী আমার সোনার বাড়ি-ঘর সবকিছু কেড়ে নিয়েছে। আমাদের সুন্দর সাজানো সংসার মুহূর্তেই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেল।
গঙ্গাচড়া উপজেলার বাসিন্দা সবুজ মিয়া বলেন, প্রতি বছর বন্যা মৌসুমে তিস্তার ভাঙন শুরু হয়। এ বছরও নদীর ভাঙনে বসতভিটা ও আবাদি জমি হুমকির মুখে পড়েছে। ভাঙন ঠেকাতে নদীর তীরে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চললেও আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা ইতিমধ্যে পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে জনদুর্ভোগে পড়েছে স্থানীয়রা।
বাগডহরা এলাকার বাসিন্দা বেলাল হোসেন অভিযোগ করেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদাসীনতায় মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। তারা শুধু সামান্য কিছু জায়গা দেখে চলে যায়। মানুষের বাড়িঘর, আবাদি জমি নদীতে বিলীন হলেও তারা কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয় না। সময়মতো কার্যকর নদীশাসন করা হলে এত ক্ষতি হতো না।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, নদীভাঙনে সড়কসহ বিভিন্ন অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তরা স্মারকলিপি দিয়েছেন। এলজিইডিকে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চরাঞ্চলের সড়ক মেরামতে বিশেষ বরাদ্দ চেয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।
রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, তিস্তার অববাহিকার নোহালী, কোলকোন্দ, আলমবিদিতর, লক্ষ্মীটারী, চর বাগডোবরা এলাকায় কাজ শুরু হয়েছে। এর আগে নদী ভাঙন এলাকায় বস্তা দিয়েছি। সেগুলো ডাম্পিং করা হয়েছে। নতুন করে যেসব এলাকায় ভাঙন দেখা দিচ্ছে, সেখানেও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।