পুরোপুরি বন্ধ থাকার তিন দিনের মাথায় আংশিক উৎপাদন শুরু করেছে কয়লা ভিত্তিক দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়ার তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টা ৩২ মিনিটে ১ নং ইউনিটটি চালু করা হয়েছে।
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন ১ নং ইউনিটটি বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ৩২ মিনিটে চালু করা হয়েছে। প্রথম অবস্থায় এই ইউনিটটি থেকে ৬৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। ক্রমান্বয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ বাড়বে। তিনটি ইউনিটের মধ্যে ২৭৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন ৩ নং ইউনিটটি ইলেকট্রো হাইড্রোলিক ওয়েল পাম্প নষ্ট হয়ে যাওয়ায় গত সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা থেকে বন্ধ হয়ে যায় বড়পুকুরিয়ার তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন। ইলেকট্রো হাইড্রোলিক ওয়েল পাম্পটি চীন থেকে আসলেই সে ইউনিটিও চালু করা হবে।
তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি সূত্র জানায়, পার্শ্ববর্তী বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির কয়লার উপর ভিত্তি করে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে পর্যায়ক্রমে মোট তিনটি ইউনিট স্থাপন করা হয়। এই তিনটি ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৫২৫ মেগাওয়াট। এরমধ্যে ১২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন ১ নং ইউনিট, অনুরূপ ১২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন ২ নং ইউনিট এবং ২৭৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন তিন নং ইউনিট। দীর্ঘদিন থেকে বন্ধ রয়েছে ২ নং ইউনিটটি। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গত ৭ সেপ্টেম্বর বন্ধ হয়ে যায় প্রথম ইউনিটটি। সর্বশেষ ইলেকট্রো হাইড্রলিক ওয়েল পাম্প নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে গত সোমবার সন্ধ্যায় বন্ধ হয়ে যায় বিদ্যুৎ কেন্দ্রের তিনটি ইউনিটও। ফলে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় ৫২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন। এরপর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রকৌশলীরা চেষ্টা চালিয়ে ১ নং ইউনিটটি চালু করার ফলে আবারও উৎপাদন শুরু করলো বড়পুকুরিয়ার তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র।
উল্লেখ্য, বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির কয়লার উপর ভিত্তি করে ২০০৬ সালে চীনা কারিগরি সহায়তায় দিনাজপুরের পার্বতীপুরে ১ হাজার ৬৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে বড়পুকুরিয়ার তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়। প্রত্যাশা ছিল দেশের উত্তরাঞ্চলে ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা মেটানো। প্রথম অবস্থায় মোট ২৫০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন দুটি ইউনিট স্থাপন করা হয়। পরে আরও ২৭৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন আরেকটি ইউনিট স্থাপন করা হয়। মোট ৫২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি কখনোই পুরোপুরি উৎপাদনে যেতে পারেনি। শুরু থেকেই একের পর যান্ত্রিক ত্রুটির মধ্যে থাকে বড়পুকুরিয়ার তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি।