কাশফুলের ছোঁয়া নিতে চরাঞ্চলে প্রকৃতিপ্রেমীর ঢল

ঋতু বৈচিত্র্যের দেশ বাংলাদেশ—যেন বারো মাসে তেরো রূপের এক অনবদ্য ক্যানভাস। তবে বর্ষার অবসানে যখন আকাশ হয় ঝকঝকে নীল, মেঘ ভেসে চলে তুলোর মতো, আর নদীর তীরে দুলতে থাকে সাদা কাশফুল, তখনই শরৎ যেন তার মহিমা ঘোষণা করে। শরৎ মানেই প্রকৃতির সাদা হাসি, শরৎ মানেই কাশফুলের মায়াবী আসর।


ঋতুর রানী শরতের এমন কাশফুলে রঙিন হয়ে উঠেছে গাইবান্ধার তিস্তা, ব্রক্ষপুত্র ও করতোয়ার নদী তীর আর চরাঞ্চল। শরতের এ কাশফুলের ছোঁয়া নিতে চরাঞ্চলগুলোতে নেমেছে প্রকৃতিপ্রেমী মানুষের ঢল।

বর্ষার অবসানে অপূর্ব শোভা ধারণ করে ঋতু রানী শরৎকাল। আর শরৎকালের কাশফুলের অপরূপ সৌন্দর্য পুলকিত করে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দায়। শরতের এই কাশফুলে ছেয়ে গেছে গাইবান্ধার ঐতিহ্যবাহী বালাশীঘাটসহ বিভিন্ন চরাঞ্চল ও নদী তীরবর্তী এলাকা।


ঝকঝকে নীল আকাশ সাথে শরৎকালের সাদা কাশফুলের সৌন্দর্য প্রকৃতিকে করে তুলেছে রূপময়। নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা আর নদী তীরে সাদা কাশফুল, যেন শতভাগ ফুঠেছে ঋতুর রানী শরৎতের সৌন্দর্য।

গাইবান্ধার তিস্তা, যমুনা, ব্রক্ষপুত্র ও করতোয়া নদীর চরাঞ্চল ঢেকে গেছে মন কেড়ে নেওয়া এ সাদা কাশফুলে। নদীর চরগুলো ঢেকে গেছে সাদা ফুলের আস্তরে। পাখির পালকের মতো উড়ছে ফুলের পাপড়িগুলো। সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত কাশফুলের ছোঁয়া নিতে চরাঞ্চলগুলোতে তাই নেমেছে প্রকৃতিপ্রেমী মানুষের ঢল।


কৃত্রিমভাবে তৈরি পার্ক ও শহরের কোলাহল থেকে প্রকৃতির কাছ থেকে একটু প্রশান্তি পেতে তারা ছুটছেন পরিবার নিয়ে। সাদা কাশফুল, নদী ও বিশুদ্ধ বাতাসে ছবি তুলে কাটাচ্ছেন সময়। সব বয়সের মানুষের মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে কাশফুলের এ অরণ্য।

জেলার ফুলছড়ি উপজেলার ব্রক্ষপুত্র নদের বালাশীঘাটে কাশফুলে ঘুড়তে আসা সিফতান খান জানান, শরৎকাল মানেই কাশফুল। তাই শরৎতের সাথে নিজেকে ধরে রাখতে কাশফুলে এ অরণ্য ঘুরতে এসেছেন।  


ফুলছড়ি উপজেলার ব্রক্ষপুত্র নদের রতনপুরের চরে ঘুরতে আসা তরুণী বন্যা আক্তার জানান, শরৎকালে সাদা ফুলের সাথে নিজের ছবি তুলতে ও শহরের কোলাহল থেকে দূরে একটু প্রকৃতির সাথে সময় কাটাতে দূর্গম এ চরে পরিবার নিয়ে এসেছেন।

বছরে একবার এবং খুব স্বল্প সময়ের জন্য ফোটা এ সাদা ফুলের সাথে নিজেকে ধরে রাখতে ও মনের প্রশান্তি মেটাতে অধির আগ্রহ নিয়ে নদী ও চরের দূর্গম পথে পেরিয়ে কাশফুলের এ অরণ্যে যাচ্ছেন ফুল প্রেমিরা।