তিস্তা নদী রক্ষায় তরুণদের ব্যতিক্রমী কর্মসূচি

তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে লালমনিরহাটে এক ব্যতিক্রমী কর্মসূচি পালন করেছে তরুণদের সংগঠন ‘জেন-জি’। ‎কর্মসূচির মূল স্লোগান ছিল— “জাগো বাহে, তিস্তা বাঁচাই”। 

বুধবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ১১টায় শহরের মিশন মোড়ে সংগঠনটির লালমনিরহাট শাখার আয়োজনে একটি ফ্ল্যাশমব ও মানববন্ধন করা হয়।

তরুণদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে ফ্ল্যাশমবটি প্রাণ পায় নাচ, অভিনয় ও প্রতীকী প্রদর্শনের মাধ্যমে। এতে তারা তিস্তা নদীর সংকট, মানুষের জীবিকা হারানোর আশঙ্কা এবং নদী রক্ষার গুরুত্ব সবার সামনে তুলে ধরে।

এ সময় লালমনিরহাটের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক কর্মী ও তরুণ প্রজন্মের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল লক্ষণীয়।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, তিস্তা নদী শুধু একটি নদী নয়— এটি উত্তরবঙ্গের জীবন, কৃষি, সংস্কৃতি ও ভবিষ্যতের প্রতীক। নদী বাঁচানো মানেই আমাদের অস্তিত্ব রক্ষা করা।

এতে সভাপতিত্ব করেন জেন-জি লালমনিরহাট এর আহ্বায়ক শহিদ ইসলাম সুজন। ‎‎অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সদস্য সচিব হামীদুর রহমান, জেন-জি লালমনিরহাট এর সদস্য সচিব আয়শা সিদ্দিকা কথা, সিনিয়র যুগ্ন সদস্য সচিব মৃদুল হাবীব, যুগ্ন-আহ্বায়ক ইউসুফ আহাম্মেদ রোকন, সদস্য কামরুজ্জামান সুমন। 

ফ্ল্যাশমব পরিচালনা করেন ঝংকার যুব সাংকৃতিক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শিব সুন্দর বর্মন। ‎সঞ্চলনা করেন জেন-জি লালমনিরহাটের সিনিয়র যুগ্ন আহ্বায়ক আতিকুর রহমান শাকিল।

 সভাপতির বক্তব্যে শহিদ ইসলাম সুজন বলেন, ‎তিস্তা নদী আমাদের জীবনের অংশ, আমাদের ইতিহাস ও সংস্কৃতির শিকড়। একসময় এই নদী ছিল কৃষির উৎস, ছিল অর্থনীতির চালিকা শক্তি। কিন্তু আজ সেই তিস্তা হয়ে উঠেছে অভাব-অনটন ও দুর্ভোগের প্রতীক। নদী ভাঙন আর বন্যায় হাজারো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, হারিয়েছে জীবিকা ও আশ্রয়।

‎বিগত সরকারগুলো বিলাসবহুল প্রকল্পে হাজার কোটি টাকা ব্যয় করলেও রংপুর অঞ্চলের মানুষের কষ্ট লাঘবে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। আমরা তরুণ প্রজন্ম এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছি।

আমাদের দাবি, আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগেই তিস্তা মেগা প্রকল্পের কাজ শুরু করতে হবে। আমরা তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানাচ্ছি এবং ভবিষ্যতেও এই আন্দোলনের অংশ থাকব। তিস্তা শুধু নদী নয়—এটি আমাদের জীবনের প্রতীক।