বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর মিরপুরে মুক্তার হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ও কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
বুধবার (২৪ জুন) পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত এই আদেশ দেন।
আজ মমতাজ বেগমকে আদালতে হাজির করে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর (শোন অ্যারেস্ট) আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মিরপুর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আজিজুল হক। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী এই আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সঙ্গে আসামির জড়িত থাকার সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো একান্ত প্রয়োজন। ঘটনাটির বিষয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পরবর্তীতে পুলিশ তার রিমান্ডের আবেদন করতে পারে বলেও জানানো হয়। শুনানির পর আদালত মমতাজ বেগমকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে মামলার বাদী ও ভিকটিম মো. মুক্তার হোসেন মিরপুরের সুইমিং পুল ও ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন রাস্তায় আন্দোলনে যোগ দেন। আন্দোলন দমাতে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণ করে। এ সময় পুলিশের ছোড়া রাবার বুলেট মুক্তার হোসেনের বুকে ও শরীরে লাগলে তিনি গুরুতর জখম হন। পরে তিনি কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। এই ঘটনায় মুক্তার হোসেন বাদী হয়ে মিরপুর মডেল থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন, যেখানে মমতাজ বেগমকে সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হলো।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১২ মে রাত পৌনে ১২টায় ধানমন্ডির স্টার কাবাবের পেছনের একটি বাসা থেকে মমতাজ বেগমকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। পরদিন আদালত তাঁর চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং তখন থেকেই তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।