সংসদ সদস্য হতে পারছেন না বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরী

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের এক ঐতিহাসিক রায়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ আসন থেকে বেসরকারিভাবে বিজয়ী বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। ঋণ খেলাপির অকাট্য অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তার পক্ষে যাওয়া নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশ না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ফলে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হলেও শেষ পর্যন্ত আর সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে পারছেন না এই বিএনপি নেতা।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ দীর্ঘ শুনানি শেষে এই চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন। এর আগে গত ১৫ জুন উভয় পক্ষের আইনি যুক্তি তর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য আজকের দিনটি (৩০ জুন) ধার্য করেছিলেন আদালত।

মামলার বিবরণ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির মনোনয়নে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন আসলাম চৌধুরী এবং ভোটের পর তাকে বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। তবে তার আগেই গত ৩ জানুয়ারি ঋণ খেলাপির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে তার মনোনয়নপত্রের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন ওই আসনের জামায়াত প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক এশিয়া পিএলসি।

রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহাল রাখলে বিষয়টি উচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়ায়। নির্বাচনের আগে হাইকোর্টের আদেশে তিনি সাময়িক স্বস্তি পেয়ে নির্বাচনে অংশ নিলেও, জামায়াত প্রার্থীর করা 'লিভ টু আপিল' মঞ্জুর করে আপিল বিভাগ জানিয়ে দিয়েছিলেন- আসলাম চৌধুরী বিজয়ী হলেও মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই আসনের ফলাফল প্রকাশ স্থগিত থাকবে।

আজ সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটল। আদালতে আসলাম চৌধুরীর পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী এবং রোকন উদ্দিন মো. ফারুক। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং ব্যাংক এশিয়ার পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কামাল উল আলম। আদালতকে আইনি মতামত দিয়ে সহায়তা করতে এই মামলায় অ্যামিকাস কিউরি (আদালত বন্ধু) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এম কামরুল হক সিদ্দিকী ও প্রবীর নিয়োগী।

আপিল বিভাগের এই রায়ের ফলে চট্টগ্রাম-৪ আসনের নির্বাচনী ফলাফল এখন আইনিভাবেই বাতিল হয়ে গেল। নিয়ম অনুযায়ী, শূন্য হয়ে যাওয়া এই আসনে পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশনকে পুনরায় নতুন করে ভোটগ্রহণের আয়োজন করতে হবে।