চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আট বছর বয়সী শিশু জান্নাতুল নেসা ওরফে ইরা মনিকে গলা কেটে হত্যা মামলার বহুল প্রতীক্ষিত রায় আজ ঘোষিত হচ্ছে না। অনিবার্য কারণে রায় ঘোষণার তারিখ পিছিয়ে আগামী বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) নতুন দিন ধার্য করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সরকারি কৌঁসুলি রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক জান্নাতুল ফেরদৌস উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে আজ মঙ্গলবার রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেছিলেন। আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের মাত্র চার মাসের মাথায় মামলাটি রায়ের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাল। আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ জুন অভিযোগ গঠনের পর মাত্র ১০ কার্যদিবসের মধ্যে ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ এবং একমাত্র আসামি ৪৫ বছর বয়সী বাবু শেখের সাফাই সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন করা হয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিহত ইরা মনির বাড়ি সীতাকুণ্ড উপজেলার ছোট কুমিরা মাস্টারপাড়ায় এবং সে স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১ মার্চ সকালে চকলেট কিনে দেওয়া ও ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে ইরাকে ফুসলিয়ে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে যান তাদের পাশের ঘরের ভাড়াটিয়া বাবু শেখ। পরে তাকে সীতাকুণ্ডের বোটানিক্যাল গার্ডেন সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। ইরা বিষয়টি অন্য সবাইকে জানিয়ে দেওয়ার কথা বললে বাবু শেখ ছুরি দিয়ে তার গলা কেটে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
সেদিন দুপুরে সড়ক সংস্কার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা জঙ্গল থেকে হেঁটে আসা রক্তাক্ত ও গলা কাটা অবস্থায় ইরা মনিকে উদ্ধার করেন। প্রথমে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩ মার্চ রাতে তার মৃত্যু হয়।
তৎকালীন পুলিশ সুপার জানান, ইরা মনির বাবা মনিরুল ইসলামের সঙ্গে বিরোধের জেরে বাবু শেখ এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করেছিলেন। ঘটনার পর ৩ মার্চ দুপুরে পুলিশ বাবু শেখকে গ্রেপ্তার করে এবং জিজ্ঞাসাবাদে সে নিজের অপরাধ স্বীকার করে। ইরা মনির মায়ের দায়ের করা এই মামলায় দ্রুততম সময়ে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ায় এখন সবার নজর আগামী বৃহস্পতিবারের চূড়ান্ত রায়ের দিকে।