তথ্য পাচারের অভিযোগে ভারতীয় নাগরিকের ৭ দিনের রিমান্ড

বাংলাদেশে বসে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার ভারতীয় নাগরিক রবিউল ইসলামকে সাত দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ এ আদেশ দেন।

এর আগে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে সরকারি গোপন আইনে মামলা করা হয়। গোয়েন্দা রমনা বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক মেজবাহ উদ্দিন বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক মো. নুর আলম তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, রবিউল ইসলামের ড্রাইভিং লাইসেন্স ও পাসপোর্টে জন্মতারিখের গড়মিল রয়েছে। তিনি ভারতীয় নাগরিক হলেও তার পাসপোর্টে জন্মস্থান হিসেবে সৌদি আরবের রিয়াদ উল্লেখ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি প্রায় ১০ থেকে ১২ বছর ধরে বাংলাদেশে যাতায়াত করছেন বলে স্বীকার করেছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, রবিউল কখনো পর্যটন ভিসা, আবার কখনো ব্যবসায়িক ভিসায় বাংলাদেশে প্রবেশ করতেন। বেশিরভাগ সময় পর্যটন ভিসায় এসে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের আড়ালে গুপ্তচরবৃত্তি করতেন এবং বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচার করতেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

মামলায় আরও বলা হয়েছে, গত ১৪ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন রবিউল। এরপর ১৫ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে অবস্থানকালে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও স্বার্থের পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়ানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ সময় গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা ও নিষিদ্ধ এলাকার ছবি এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি বা তথ্য বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পাঠানোর চেষ্টা করেছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এসব অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ১৯২৩ সালের অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের ৩, ৩এ, ৪, ৫ ও ৯ ধারায় অপরাধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্টদের সহায়তা করার অভিযোগও আনা হয়েছে।

এর আগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর ৫৪ ধারায় রবিউল ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। ওইদিন গোয়েন্দা রমনা বিভাগের অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার দলের উপপরিদর্শক বিনয় কুমার রায় তার সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। সেই জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হওয়ার পর ২৭ সেপ্টেম্বর আবারও চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।