গাজী নজরুলের জামিন আবারও নামঞ্জুর

দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় করা আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় ফের আবেদন করেও জামিন পাননি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। রোববার (১১ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীরের আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। ঢাকা মহানগর আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে, একই মামলায় নজরুলের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছিলেন আদালত। ওই শুনানিতে আসামিপক্ষ থেকে মরিয়মের পরিবারের সঙ্গে আপসের কথা তুলে ধরে একটি আপসনামা আদালতে উপস্থাপন করা হয়। তবে রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করে জানায়, আত্মহত্যার প্ররোচনার এ মামলাটি আপসের মাধ্যমে নিষ্পত্তির সুযোগ নেই।

আগের শুনানিতে আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছিলেন, ১৯ বছর বয়সী মরিয়মকে প্রলুব্ধ করে বিয়ে করার অভিযোগ রয়েছে। দেশের সবচেয়ে নিরাপদ স্থান হিসেবে বিবেচিত সংসদ সদস্যের বাসায় আসামির হেফাজতে থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আপসনামা বা এফিডেভিট বিবেচনায় নিয়ে জামিন দেওয়া হলে সমাজে আইনের প্রতি বিদ্রূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে।

মরিয়মের বাবা ও মামলার বাদী এস এম মাসুম বিল্লাহ বলেছিলেন, তিনি মেয়ের বিচার চান। তবে পারিবারিক সম্পর্ক ঠিক রাখার জন্য আপসনামায় স্বাক্ষর করেন। মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় তিনি তার শ্যালক ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে বেশি দায়ী করেন বলেও জানিয়েছিলেন।

গত ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তার বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করে আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা করেন।

মামলায় নজরুলকে দুই দফায় মোট আট দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। ২৮ সেপ্টেম্বর রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ৩০ সেপ্টেম্বর নজরুল ও মাকসুদা জামিনের আবেদন করেন। সেদিন মাকসুদা জামিন পেলেও নজরুলের আবেদন নামঞ্জুর হয়। এরপর আবারও জামিনের আবেদন করেন নজরুল। সর্বশেষ রোববারও তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করলেন আদালত।