অপ্রতীম হত্যা: চার আসামির পরিচয় জানালো পুলিশ

কুমিল্লার শিশু ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম হত্যা মামলায় মূল চার আসামির পরিচয় তুলে ধরেছে পুলিশ। তারা হলেন—সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫), মো. কামরুল হাসান এবং মো. সিয়াম (১৯)।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অপ্রতীমকে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন জঙ্গলে নিয়ে আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এতে বাধা দিলে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের শক্ত লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন।

রোবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টায় কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।

পুলিশ সুপার বলেন, মামলার প্রধান আসামি সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯)। তার বাবার নাম নুরে আলম এবং মায়ের নাম শিরিনা আক্তার। তার ঠিকানা সানন্দা (মৈশান বাড়ি), ২৪ নম্বর ওয়ার্ড, কুমিল্লা সিটি করপোরেশন, সদর দক্ষিণ থানা, কুমিল্লা। তিনি কুমিল্লা সিটি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে পড়ার সময় ২০২৫ সালে ফেল করে ড্রপআউট হন। বর্তমানে তিনি পড়ালেখা করেন না।

দ্বিতীয় আসামি মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫)। তার বাবার নাম মমিন হোসেন এবং মায়ের নাম জুলি আক্তার। তার ঠিকানা সালমানপুর (মেম্বার বাড়ি), ২৪ নম্বর ওয়ার্ড, কুমিল্লা সিটি করপোরেশন, সদর দক্ষিণ থানা, কুমিল্লা। তিনি ময়নামতি কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

তৃতীয় আসামি মো. কামরুল হাসান। তার বাবার নাম মো. আব্দুল কুদ্দুস এবং মায়ের নাম কুলসুম আক্তার। তার ঠিকানা হাতিগাড়া, কালিবাজার, কোতোয়ালি, কুমিল্লা।

চতুর্থ আসামি মো. সিয়াম (১৯)। তার বাবার নাম মো. সেলিম মিয়া এবং মায়ের নাম শিরিনা আক্তার। তার ঠিকানা এলাহীপুর, সদর দক্ষিণ, কুমিল্লা। তিনি আফজাল খান ডিগ্রি কলেজ, দৌলতপুর, কোতোয়ালি, কুমিল্লার দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র।

পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, চাঞ্চল্যকর অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটনে জিডির ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করা হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। এতে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর আনুমানিক দুপুর ২টা থেকে সোয়া ২টার দিকে তুহিন অপ্রতীমকে সঙ্গে নিয়ে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার চারপাশে পাহাড়ঘেরা নির্জন জঙ্গলের ভেতরে নিয়ে যায়।

তিনি বলেন, পরবর্তীতে অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের পর সিসিটিভি ফুটেজ দেখা ও পর্যালোচনা করা হয়। এতে অপ্রতীমের সঙ্গে থাকা তুহিনকে শনাক্ত করা হয়। অপ্রতীমের মৃত্যুর সংবাদ পাওয়ার আগেই তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। একটানা জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন স্বীকার করে যে অপ্রতীমের মোবাইল ফোন আইফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই পরিকল্পনা করে তাকে ওই নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। তুহিন আরও জানায়, এ ঘটনায় ফাহাদ ও ফাহাদের এক বন্ধু জড়িত ছিল। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে ফাহাদকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে ফাহাদ জানায়, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার আরেক বন্ধু কামরুলও জড়িত। পরে ফাহাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কামরুলকে হেফাজতে নেওয়া হয়।

পুলিশ সুপার বলেন, তুহিনের দেওয়া তথ্য ও তার দেখানো মতে প্রথমে পুলিশকে ভুল পথে পরিচালিত করা হয়। আইফোন উদ্ধারের জন্য তিনটি জায়গায় অভিযান চালানো হলেও সেখানে সেটি পাওয়া যায়নি। পরে তুহিনের স্বীকারোক্তি ও দেখানো মতে তার বাসায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে তার দেখানো স্থান থেকে অপ্রতীমের আইফোনটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়।