‘পরিকল্পিত ও স্মার্ট কৃষিতে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’এই স্লোগানকে সামনে রেখে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (BAU) ১৯৮০–৮১ ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) ঢাকার অদূরে সাভারের বিরুলিয়ায় অবস্থিত অভিজাত রিসোর্ট রিভারস রিডজে আয়োজিত এ মিলনমেলায় দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রায় ২৫০ জন কৃষিবিজ্ঞানী ও বিশিষ্টজন অংশ নেন।
মাঘের শীতের নরম রোদ আর কুয়াশামাখা সকালে স্মৃতির ডানায় ভর করে মিলিত হন দীর্ঘদিনের সহপাঠীরা। সকাল থেকেই অনুষ্ঠানস্থল মুখর হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত আড্ডা, হাসি আর আবেগে।
কৃষি, কৃষি অর্থনীতি, কৃষি প্রকৌশল, মৎস্য সম্পদ, পশু সম্পদ ও পশুপালনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সব অনুষদের সাবেক শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে মিলনমেলা পরিণত হয় এক সর্বজনীন উৎসবে।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রয়াত সহপাঠীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এরপর রেজিস্ট্রেশন ও নাস্তা পর্বে অংশগ্রহণকারীদের জন্য ছিল লাইভ পিঠার বিশেষ আয়োজন। চিতইসহ নানা ধরনের ঐতিহ্যবাহী পিঠায় শীতের সকাল আরও আনন্দময় হয়ে ওঠে।
নাস্তা শেষে সবাই অংশ নেন নৌভ্রমণে। নদীর বুকে নৌকাভ্রমণের ফাঁকে ফাঁকে চলতে থাকে স্মৃতিচারণ ও প্রাণখোলা গল্প। নৌভ্রমণ শেষে অংশগ্রহণকারীরা ঘুরে দেখেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সবুজে ঘেরা নান্দনিক ক্যাম্পাস। ক্যাম্পাস পরিদর্শন শেষে নির্ধারিত ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হয় মধ্যাহ্নভোজ।
সারাদিনের আয়োজনে শিশুদের বিভিন্ন খেলাধুলার পাশাপাশি বয়স্ক নারী ও পুরুষদের জন্যও ছিল আনন্দঘন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা।
বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় স্মৃতিচারণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে বেতার ও টেলিভিশনের খ্যাতনামা শিল্পীরা সংগীত পরিবেশন করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান আব্দুস সবুর খান।
আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন ব্যাচের সভাপতি এবং সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর ড. খন্দকার নাসির উদ্দিনসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। মিলনমেলার সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন মুখ্য সমন্বয়ক ড. মীর শাহ আলম।
মিলনমেলায় প্রশাসন, পুলিশ, কৃষি ও বিভিন্ন ক্যাডারের সাবেক কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বিএডিসি, মৎস্য ও পশু সম্পদ অধিদপ্তর, কৃষি প্রকৌশল অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও কর্মকর্তারা এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি থেকে সমাপ্তি পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন অতিরিক্ত আইজিপি মোশারফ হোসেন, ডিআইজি রফিকুল ইসলাম, সাবেক সচিব আফজল হোসেন, কৃষি অধিদপ্তরের পরিচালক ড. আব্দুল মান্নান, সাবেক ডিজি বেনাজীর আহমেদ, হাবিবুর রহমান, সাবেক সচিব আফজাল হোসেন, পরিচালক মোয়াজ্জম হোসেন, মিজানুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট অনেকেই। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় BAU ৮০–৮১ ব্যাচের এই পুনর্মিলনী পরিণত হয় স্মৃতি, সৌহার্দ্য ও নস্টালজিয়ায় ভরপুর এক সফল আয়োজন।
দিনব্যাপী এই মিলনমেলা শুধু পুরোনো বন্ধুদের দেখা হওয়ার উপলক্ষই নয় বরং পরিকল্পিত ও স্মার্ট কৃষির মাধ্যমে দেশ গড়ার প্রত্যয় নতুন করে জাগিয়ে তোলে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে।