জবিতে ফুটবল খেলা নিয়ে সংঘর্ষ, শিক্ষকসহ আহত ৩০

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) আন্তঃবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে ধূপখোলা মাঠ। ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় হওয়া এই সংঘর্ষে শিক্ষক ও সাংবাদিকসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে খেলা শেষ হওয়ার পরপরই এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। 

প্রত্যক্ষদর্শী ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ ধূপখোলায় অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ ও গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ। নির্ধারিত সময়ের খেলা ড্র হওয়ায় ম্যাচটি টাইব্রেকারে গড়ায়। টাইব্রেকারে ৩-০ গোলে জয় লাভ করে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ। তবে জয়ের পরপরই উল্লাস করা নিয়ে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়, যা মুহূর্তেই ভয়াবহ সংঘর্ষে রূপ নেয়।

এই সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সাংবাদিকরা। আহত শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন- ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম, ড. তারেক বিন আতিক, ড. মুহাম্মদ সালেহ উদ্দিন ও ড. ইব্রাহীম খলিল। এ ছাড়া গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগেরও একাধিক শিক্ষক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে শিক্ষার্থীদের হামলার শিকার হয়েছেন বেশ কয়েকজন সংবাদকর্মী। আহতদের মধ্যে রয়েছেন- দ্য ডেইলি স্টারের জবি প্রতিনিধি রাকিবুল হাসান রাকিব, দৈনিক আমার দেশের লিমন ইসলাম, দেশ রূপান্তরের ফাতেমা আক্তার, দিনকালের এস এম সিয়াম, নওরোজের নাঈমুর রহমান এবং বায়ান্ন নিউজের মিনহাজুল ইসলাম মিন্টু। আহত সাংবাদিকদের রাজধানীর ন্যাশনাল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

সংঘর্ষের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. তাজাম্মুল হক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘খেলা নিয়ে এ ধরনের মারামারির ঘটনা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশের পরিপন্থী। আমরা ইতোমধ্যে উভয় বিভাগের শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছি এবং বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে সুরাহা করার চেষ্টা করছি।’