এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষাবোর্ডের জরুরি নির্দেশনা

চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা শতভাগ সুষ্ঠু, স্বচ্ছ, নকলমুক্ত এবং সুশৃঙ্খল পরিবেশে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সব পরীক্ষা কেন্দ্রের জন্য কঠোর ও বিস্তৃত নির্দেশনা জারি করেছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। নতুন এই নির্দেশনার আওতায় প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রের সিসিটিভি ক্যামেরা সার্বক্ষণিক সচল রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একই সঙ্গে ক্যামেরা-সংক্রান্ত প্রযুক্তিগত তথ্য এবং প্রশ্নপত্র পরিবহনের দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিদের বিস্তারিত পরিচয়ও বোর্ডে জমা দিতে হবে।

সোমবার (১ জুন) ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর জেসমিন তাসলিমা বানু স্বাক্ষরিত এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়। পরীক্ষার নিরাপত্তা, গোপনীয়তা এবং সামগ্রিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার স্বার্থেই বোর্ড প্রশাসন এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে বলে জানা গেছে।

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের পাঠানো নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এইচএসসি পরীক্ষা-২০২৬ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার স্বার্থে প্রতিটি কেন্দ্রের সিসিটিভি ক্যামেরার ডিভিআর বা এনভিআরের সঙ্গে সার্বক্ষণিক উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ চালু রাখতে হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের সিসিটিভি ব্যবস্থার মূল আইডি, পাসওয়ার্ড, ক্যামেরার ব্র্যান্ড এবং ডিভাইসের নির্দিষ্ট সিরিয়াল নম্বরসহ প্রয়োজনীয় সব প্রযুক্তিগত তথ্য আগামী ৮ জুনের মধ্যে বোর্ডের নির্ধারিত ইমেইল ঠিকানায় জরুরি ভিত্তিতে পাঠাতে হবে।

শিক্ষা বোর্ডের এই উদ্যোগের ফলে প্রয়োজন হলে কর্তৃপক্ষ যেকোনো সময় সরাসরি কোনো কেন্দ্রের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও তদারকি করতে পারবে। এতে পরীক্ষা চলাকালে অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা বা নিরাপত্তা-সংক্রান্ত কোনো ঘটনা দ্রুত শনাক্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

ডিজিটাল নজরদারির পাশাপাশি প্রশ্নপত্রের নিরাপদ পরিবহন নিশ্চিত করতেও বাড়তি গুরুত্ব দিয়েছে শিক্ষা বোর্ড। নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতিদিন সকালে মূল ট্রেজারি বা থানা থেকে প্রশ্নপত্র গ্রহণ এবং তা পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়ার কাজে যেসব শিক্ষক, কর্মচারী ও সরকারি ট্যাগ অফিসার সরাসরি দায়িত্ব পালন করবেন, তাদের প্রত্যেকের পূর্ণাঙ্গ নাম, স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা এবং ব্যক্তিগত সচল মোবাইল নম্বর আগামী ৮ জুনের মধ্যে বোর্ডে পাঠাতে হবে।

বোর্ড মনে করছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্য সংরক্ষণ ও জবাবদিহির আওতায় আনার মাধ্যমে প্রশ্নপত্র পরিবহন প্রক্রিয়াকে আরও নিরাপদ, স্বচ্ছ এবং নিয়ন্ত্রিত রাখা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে প্রশ্নফাঁস বা প্রশ্নপত্র সংক্রান্ত যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

বিজ্ঞপ্তিতে পুরো বিষয়টিকে ‘অতীব জরুরি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, বোর্ডের জারি করা নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ না করলে বা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য জমা না দিলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে।