২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার নির্ধারিত সময়সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। তিনি জানিয়েছেন, পরীক্ষার তারিখ ৭ জানুয়ারি নির্ধারণের পর বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে। তাই প্রয়োজন হলে অংশীজনদের সঙ্গে আবারও আলোচনা করে নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হতে পারে।
মঙ্গলবার (২ জুন) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা বলেন। তিনি জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয় শুরু থেকেই অংশীজনদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও সেই নীতির ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।
মন্ত্রী বলেন, শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত নিয়েই কাজ করা হচ্ছে। এসএসসি পরীক্ষার সময়সূচি নিয়ে জনমত জানার জন্য আবারও আলোচনা হতে পারে। মূলত রমজান মাসের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই পরীক্ষার সময় এক মাস এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে পরীক্ষা আয়োজনের চিন্তা ছিল। তবে রমজানের সময়সূচি সামনে রেখে সেটি পরিবর্তন করা হয়। তার ভাষায়, রোজার কারণে পরীক্ষা এগিয়ে আনা হয়েছে। অন্যথায় পরীক্ষা রমজানের পরে চলে যেত। এখন অনেকেই মত দিচ্ছেন যে পরীক্ষা রমজানের পর শেষ করা যেতে পারে। এসব বিষয় আলোচনার মাধ্যমেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হবে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও আশ্বস্ত করেন, সিলেবাস সম্পন্ন না করে কোনোভাবেই পরীক্ষা নেওয়া হবে না। তিনি বলেন, মানুষের মতামত, কারিকুলাম এবং সিলেবাস, সবকিছুই বিবেচনায় রাখতে হবে। সিলেবাস শেষ না করে পরীক্ষা আয়োজনের কোনো সুযোগ নেই।
তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরেই অংশীজনদের একটি বড় অংশ রমজানের আগে এসএসসি পরীক্ষা আয়োজনের পক্ষে মত দিয়ে আসছিলেন। সেই আলোচনার ভিত্তিতেই সম্ভাব্য সময়সূচি নির্ধারণ এবং রুটিন প্রস্তুতের কাজ এগিয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ায় পুনর্বিবেচনার সুযোগও খোলা রাখা হয়েছে।
সম্ভাব্য সূচির আগেই সিলেবাস শেষ করা হবে এবং পরীক্ষার প্রস্তুতিতেও কোনো ঘাটতি রাখা হবে না বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীও অবগত রয়েছেন। তবে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মতামত এবং বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে সময়সূচিতে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
সেশনজট কমানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, ১৬ বছরের শিক্ষাজীবন অনেক ক্ষেত্রে ১৭ বছরে গড়াচ্ছে, আবার ১৭ বছরের পড়াশোনা শেষ করতে কোথাও কোথাও ২০ বছর পর্যন্ত সময় লেগে যাচ্ছে। এই অতিরিক্ত সময়ের ক্ষতি সমন্বয় করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, সরকারের উদ্দেশ্য হলো শিক্ষা কার্যক্রমকে সময়ের সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করা এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব কমিয়ে আনা। তবে এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে অংশীজনদের মতামতকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।