এইচএসসি কেন্দ্রে নতুন নজরদারি

শুরু হলো ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে এবার সারাদেশে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী। আর এবারের পরীক্ষার অন্যতম নতুন সংযোজন- প্রথমবারের মতো পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও রেকর্ড রাখতে পুলিশের বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার।

পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশের সময় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই নেওয়া হয়েছে এই উদ্যোগ। সিসিটিভি নজরদারির পাশাপাশি বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার পরীক্ষা ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) পরীক্ষার প্রথম দিন রাজধানীর উত্তরা রাজউক মডেল কলেজ কেন্দ্রে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের শরীরে বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করতে দেখা যায়। একইসঙ্গে কেন্দ্রের বাইরে মাইকে পরীক্ষাসংক্রান্ত বিভিন্ন নির্দেশনা ও নিয়মকানুন প্রচার করা হচ্ছিল।

নির্ধারিত নিয়ম মেনে পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্রে প্রবেশ করেন। যানজটের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে এবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকেই পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে জাতীয় মনিটরিং ও আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের অভিজ্ঞতা ইতিবাচক ছিল। এ প্রযুক্তি ব্যবহারে অপরাধপ্রবণ ব্যক্তিদের মধ্যে সতর্কতা ও ভীতি তৈরি হয়। একই কারণে পরীক্ষাকেন্দ্রেও এই প্রযুক্তি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে পুলিশ।

শিক্ষা উপদেষ্টা আ ন ম এহছানুল হক মিলনও এ প্রস্তাবকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, পুলিশের এ উদ্যোগ প্রশংসনীয়। এর মাধ্যমে কেন্দ্রের ভেতরে ও বাইরে দায়িত্ব পালনকারী সবার মধ্যে আরও বেশি সতর্কতা তৈরি হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত এসএসসি পরীক্ষায় কেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের পর নকলের ঘটনা প্রায় ৭৮ শতাংশ কমে আসে। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই এবার সিসিটিভি নজরদারির পাশাপাশি বডি ওর্ন ক্যামেরা যুক্ত করা হয়েছে, যাতে পরীক্ষা আরও সুষ্ঠু ও নিরাপদ পরিবেশে সম্পন্ন করা যায়।

এবার পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৯ হাজার ৪৩৯টি এবং মোট পরীক্ষাকেন্দ্র ২ হাজার ৬৯৭টি। এর মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন শিক্ষার্থী ১ হাজার ৬২৬টি কেন্দ্রে পরীক্ষা দেবে। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৪৬১টি কেন্দ্রে অংশ নেবে ৯২ হাজার ৯০৫ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৬১০টি কেন্দ্রে অংশ নেবে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন পরীক্ষার্থী।