জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তনের তারিখ ঘোষণা

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর দ্বিতীয় সমাবর্তনের তারিখ ঘোষণা করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। আগামী বছর ২৩ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়টির দ্বিতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হবে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ এই তথ্য জানিয়েছেন।

উপাচার্য জানান, দ্বিতীয় সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত থাকার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন।

এর আগে রোববার দুপুরে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। এ সময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও একাডেমিক কার্যক্রমের বর্তমান চিত্র রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর গত দুই বছরে শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ এবং এর মাধ্যমে পরিবর্তন আনার প্রচেষ্টার বিষয়েও রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন তিনি। সাক্ষাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন আয়োজন নিয়েও আলোচনা হয়।

১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ৩৩ বছরে সমাবর্তন হয়েছে মাত্র একবার। প্রতিষ্ঠার ২৫ বছর পর ২০১৭ সালের ১৭ জানুয়ারি প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও রাষ্ট্রপতি উপস্থিত ছিলেন।

প্রথম সমাবর্তনে ১৯৯৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ে উত্তীর্ণ ৪ হাজার ৯৩২ জন নিবন্ধিত স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী অংশ নেন। কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের জন্য আট শিক্ষার্থীকে স্বর্ণপদক দেওয়া হয়।

এরপর একাধিকবার সমাবর্তন আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘদিন ধরে সমাবর্তন আয়োজনের দাবি জানিয়ে আসছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোর শিক্ষার্থীরা ও গ্র্যাজুয়েটরা। তাদের অভিযোগ, নিয়মিত সমাবর্তন না হওয়ায় শিক্ষা জীবনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির স্বীকৃতি থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজের সংখ্যা বর্তমানে দুই হাজারের বেশি। এসব কলেজ থেকে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করলেও তাদের বড় একটি অংশ সমাবর্তনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাননি।

সমাবর্তন না হওয়ায় মূল সনদ সংগ্রহের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন ধরনের জটিলতার মুখোমুখি হতে হয় গ্র্যাজুয়েটদের। অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের সাময়িক সনদ দিয়ে প্রয়োজনীয় কাজ চালাতে হয়। বিশেষ করে বিদেশে উচ্চশিক্ষার আবেদনের ক্ষেত্রে কিছু প্রতিষ্ঠান সাময়িক সনদ গ্রহণ না করায় সমস্যায় পড়তে হয় শিক্ষার্থীদের। কোথাও সাময়িক সনদ গ্রহণ করা হলেও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মূল সনদ জমা দেওয়ার শর্ত দেওয়া হয়।

দ্বিতীয় সমাবর্তনের তারিখ ঘোষণার ফলে দীর্ঘদিন পর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপুলসংখ্যক গ্র্যাজুয়েটের সমাবর্তনে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এখন সমাবর্তনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের নিবন্ধন ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা কীভাবে সম্পন্ন হবে, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছেন গ্র্যাজুয়েটরা।